বাংলাদেশ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

১৬ বছরের হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র থাকবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

স্টাফ রিপোর্টার ইনসাফ বিশ্ব
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 155

ছবি: সংগৃহীত

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্মাণাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এখানে উপস্থাপন করা হবে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের নানান চিত্র—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন-আয়নাঘর, শাপলা চত্বরের গণহত্যা থেকে শুরু করে ভোট ডাকাতি পর্যন্ত।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাদুঘরের উদ্বোধন সম্ভব হবে।

দেড় দশকের বেশি সময় শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন এখন গণঅভ্যুত্থান ও জনরোষের প্রতীক। দেয়ালজুড়ে আঁকা প্রতিবাদের স্লোগান—‘হাসু আপা পালাইছে’, ‘কই গেলি হাসিনা’, ‘শাপলা চত্বরের বিচার চাই’, ‘কিলার হাসিনা’। সেই গণভবনেই গড়ে উঠছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, যেখানে থাকবে গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রাম, শহীদদের ত্যাগ ও বিজয়ের দলিল।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, “হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র আমরা কিউরেট করছি যাতে ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ইতিহাস মানুষ জানতে পারে।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, দর্শনার্থীরা জাদুঘরে এসে ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার ঢলের অনুভূতি পাবেন। তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলার জন্য এ জাদুঘর বড় ভূমিকা রাখবে।”

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব জানান, এখানে থাকবে শেখ হাসিনার শাসনামলের গুম-খুনের বিস্তারিত তথ্য। অনেক অডিও ক্লিপ জাদুঘরের হাতে এসেছে, যেখানে গুমের নির্দেশ ও হাসিনার মিথ্যা সান্ত্বনার প্রমাণ রয়েছে। দর্শনার্থীরা সিকোয়েন্স আকারে জানতে পারবেন কীভাবে দেশ চালানো হতো। এছাড়াও থাকবে স্ক্রিনিং সেন্টার, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাসিনার দুঃশাসন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গুম তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে।

এ জাদুঘরকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সবাই।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

১৬ বছরের হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র থাকবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নির্মাণাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এখানে উপস্থাপন করা হবে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের নানান চিত্র—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন-আয়নাঘর, শাপলা চত্বরের গণহত্যা থেকে শুরু করে ভোট ডাকাতি পর্যন্ত।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাদুঘরের উদ্বোধন সম্ভব হবে।

দেড় দশকের বেশি সময় শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন এখন গণঅভ্যুত্থান ও জনরোষের প্রতীক। দেয়ালজুড়ে আঁকা প্রতিবাদের স্লোগান—‘হাসু আপা পালাইছে’, ‘কই গেলি হাসিনা’, ‘শাপলা চত্বরের বিচার চাই’, ‘কিলার হাসিনা’। সেই গণভবনেই গড়ে উঠছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, যেখানে থাকবে গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রাম, শহীদদের ত্যাগ ও বিজয়ের দলিল।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, “হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র আমরা কিউরেট করছি যাতে ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ইতিহাস মানুষ জানতে পারে।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, দর্শনার্থীরা জাদুঘরে এসে ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার ঢলের অনুভূতি পাবেন। তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলার জন্য এ জাদুঘর বড় ভূমিকা রাখবে।”

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব জানান, এখানে থাকবে শেখ হাসিনার শাসনামলের গুম-খুনের বিস্তারিত তথ্য। অনেক অডিও ক্লিপ জাদুঘরের হাতে এসেছে, যেখানে গুমের নির্দেশ ও হাসিনার মিথ্যা সান্ত্বনার প্রমাণ রয়েছে। দর্শনার্থীরা সিকোয়েন্স আকারে জানতে পারবেন কীভাবে দেশ চালানো হতো। এছাড়াও থাকবে স্ক্রিনিং সেন্টার, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাসিনার দুঃশাসন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গুম তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে।

এ জাদুঘরকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সবাই।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :