বাংলাদেশ ০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চান তারেক রহমান

ইনসাফ বিশ্ব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 109

ছবি: তারেক রহমান

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলবে, যা লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

নারীর অংশগ্রহণেই অর্থনীতির উন্নয়ন

তারেক রহমান বলেন, যখন কোনো তরুণী মা শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, বা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করেন, তখন দেশ তার এক বিশাল সম্ভাবনা হারায়।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ—যেখানে কোনো নারীকে পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে বেছে নিতে হবে না।”

নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ অনেক কম।
পুরুষদের ৮০ শতাংশ কর্মজীবী হলেও নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ করতে চায়।
তার পরিকল্পনায় রয়েছে—

সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন,

সরকারি অফিসে ধাপে ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু,

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা,

শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখলে নিয়োগকর্তাদের কর ছাড় ও সিএসআর সুবিধা,

কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।

অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে এই উদ্যোগ

তারেক রহমানের মতে, এই সংস্কার নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি ও মধ্যবিত্তের স্থিতিশীলতা আনবে। এমনকি এটি দেশের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে সক্ষম হবে।

নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী নারী, তাই তাদের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি ও অনুপস্থিতি কম।

শিশু পরিচর্যা সামাজিক অবকাঠামোর অংশ

তারেক রহমান বলেন, “শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া নয়; এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। যেমন সড়ক বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার নারীদের সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”

বিএনপির লক্ষ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি

তিনি আরও বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে।
“আমরা পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করি। নারীকে কর্মজীবনের সমান সুযোগ দেওয়া ন্যায়সংগতই নয়; এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতিরও ভিত্তি।”

শেষ কথা

তারেক রহমান বলেন, “আসুন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে প্রতিটি মা, প্রতিটি ছাত্রী নিজের স্বপ্ন পূরণের স্বাধীনতা পায়, আর সমাজ সহযোগিতা ও যত্নকে অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চান তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলবে, যা লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

নারীর অংশগ্রহণেই অর্থনীতির উন্নয়ন

তারেক রহমান বলেন, যখন কোনো তরুণী মা শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, বা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করেন, তখন দেশ তার এক বিশাল সম্ভাবনা হারায়।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ—যেখানে কোনো নারীকে পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে বেছে নিতে হবে না।”

নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ অনেক কম।
পুরুষদের ৮০ শতাংশ কর্মজীবী হলেও নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ করতে চায়।
তার পরিকল্পনায় রয়েছে—

সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন,

সরকারি অফিসে ধাপে ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু,

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা,

শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখলে নিয়োগকর্তাদের কর ছাড় ও সিএসআর সুবিধা,

কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।

অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে এই উদ্যোগ

তারেক রহমানের মতে, এই সংস্কার নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি ও মধ্যবিত্তের স্থিতিশীলতা আনবে। এমনকি এটি দেশের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে সক্ষম হবে।

নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী নারী, তাই তাদের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি ও অনুপস্থিতি কম।

শিশু পরিচর্যা সামাজিক অবকাঠামোর অংশ

তারেক রহমান বলেন, “শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া নয়; এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। যেমন সড়ক বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার নারীদের সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”

বিএনপির লক্ষ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি

তিনি আরও বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে।
“আমরা পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করি। নারীকে কর্মজীবনের সমান সুযোগ দেওয়া ন্যায়সংগতই নয়; এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতিরও ভিত্তি।”

শেষ কথা

তারেক রহমান বলেন, “আসুন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে প্রতিটি মা, প্রতিটি ছাত্রী নিজের স্বপ্ন পূরণের স্বাধীনতা পায়, আর সমাজ সহযোগিতা ও যত্নকে অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :