বাংলাদেশ ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনযোগ্য নয়

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে : টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

ইনসাফ বিশ্ব ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪
  • / 253
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন যে, সাইবার নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনযোগ্য নয়, এটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি এই আইনে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “বাতিলযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা আইন: জনগণের প্রত্যাশা” শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিজিটাল রাইটস, নাগরিক এবং ইউনাইটেড নেশনস বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

আইন বাতিলের দাবি ও জবাবদিহিতার আহ্বান

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা আইনটি কর্তৃত্ববাদী শাসকদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সংশোধন নয়, পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। যারা এই আইনের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই আইনের ফলে যেসব ব্যক্তি হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো আইনে “সাইবার সিকিউরিটি” শব্দটি থাকা উচিত নয়। কারণ এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখোমুখি করেছে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম এবং এমআরডিআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মিরাজ আহমেদ চৌধুরী।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে অনেক মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সমালোচনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে শেখ হাসিনার সময় যেমন মামলা করা হতো, এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।”

শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, “হয়রানি করা আমাদের দেশের একটি সাধারণ মনোভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, তা যেন হয়রানির হাতিয়ার না হয়।”

মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং সাইবার সিকিউরিটির আলোচনাকে আলাদা করতে না পারলে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সাইবার নিরাপত্তা আইনটি প্রণীত হওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, লেখকসহ সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনটির কিছু ধারা ক্ষমতাসীনদের জন্য একপ্রকার ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে, কারণ এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে এই আইনটি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই আইনটি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে পারছে না বরং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন করা হচ্ছে।

গোলটেবিল বৈঠকের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর অভিমত

এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। তাঁরা আইনটির বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং এর বাতিলের দাবি জানান।

শহিদুল আলম বলেন, “এই আইনটি কেবল সরকারের জন্য সুবিধা তৈরি করছে, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার পরিবর্তে। আইনটি বাতিল না হলে, এর অপব্যবহার বন্ধ হবে না।”

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “সরকারকে জনস্বার্থে নতুন আইনের রূপরেখা তৈরি করতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার হবে না।”

উপসংহার

সাইবার নিরাপত্তা আইনটি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত আইনগুলোর একটি। এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। টিআইবি এবং অন্যান্য সংগঠনের দাবি, আইনটি সংশোধনযোগ্য নয়, বরং সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আইনটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আর হয়রানির শিকার না হয় এবং সাইবার নিরাপত্তার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনযোগ্য নয়

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে : টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন যে, সাইবার নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনযোগ্য নয়, এটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি এই আইনে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “বাতিলযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা আইন: জনগণের প্রত্যাশা” শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিজিটাল রাইটস, নাগরিক এবং ইউনাইটেড নেশনস বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

আইন বাতিলের দাবি ও জবাবদিহিতার আহ্বান

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা আইনটি কর্তৃত্ববাদী শাসকদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সংশোধন নয়, পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। যারা এই আইনের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই আইনের ফলে যেসব ব্যক্তি হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো আইনে “সাইবার সিকিউরিটি” শব্দটি থাকা উচিত নয়। কারণ এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখোমুখি করেছে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম এবং এমআরডিআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মিরাজ আহমেদ চৌধুরী।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে অনেক মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সমালোচনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে শেখ হাসিনার সময় যেমন মামলা করা হতো, এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।”

শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, “হয়রানি করা আমাদের দেশের একটি সাধারণ মনোভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, তা যেন হয়রানির হাতিয়ার না হয়।”

মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং সাইবার সিকিউরিটির আলোচনাকে আলাদা করতে না পারলে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সাইবার নিরাপত্তা আইনটি প্রণীত হওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, লেখকসহ সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনটির কিছু ধারা ক্ষমতাসীনদের জন্য একপ্রকার ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে, কারণ এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে এই আইনটি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই আইনটি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে পারছে না বরং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন করা হচ্ছে।

গোলটেবিল বৈঠকের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর অভিমত

এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। তাঁরা আইনটির বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং এর বাতিলের দাবি জানান।

শহিদুল আলম বলেন, “এই আইনটি কেবল সরকারের জন্য সুবিধা তৈরি করছে, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার পরিবর্তে। আইনটি বাতিল না হলে, এর অপব্যবহার বন্ধ হবে না।”

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “সরকারকে জনস্বার্থে নতুন আইনের রূপরেখা তৈরি করতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার হবে না।”

উপসংহার

সাইবার নিরাপত্তা আইনটি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত আইনগুলোর একটি। এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। টিআইবি এবং অন্যান্য সংগঠনের দাবি, আইনটি সংশোধনযোগ্য নয়, বরং সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আইনটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আর হয়রানির শিকার না হয় এবং সাইবার নিরাপত্তার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :