বাংলাদেশ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

কেশবপুরে বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শ্রেণি কার্যক্রম স্থবির

যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪
  • / 382
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সম্প্রতি কেশবপুরে বন্যার কারণে ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, আবার কিছু স্কুলের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বিকল্প স্থানে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বন্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুরে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কলেজ, ৩১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের ১০৪টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার কারণে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থী চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

কেশবপুরে বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শ্রেণি কার্যক্রম স্থবির
ছবি: ইনসাফ বিশ্ব

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস অন্য স্থানে নিতে হচ্ছে। কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় ব্রহ্মা জানান, তার বিদ্যালয়টি প্রায় দুই মাস ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। শুধুমাত্র অফিসকক্ষে নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, এবং বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্য দিয়ে ১৫০ ফুট বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে।

মাঠের পানি ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা থেকে বঞ্চনা

বন্যার পানিতে মাঠ তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা বন্যার পানি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বাধা সৃষ্টি করছে। একইভাবে, রাজনগর বাঁকাবর্শী মোড়লপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের পাশে মকবুল হোসেনের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব

উপজেলার মধ্যকুল মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। কেশবপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ১টি সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ৩১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি মাদ্রাসার মাঠে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, হরিহর, বুড়িভদ্রা ও আপারভদ্রা নদীর পলি অপসারণের খনন কাজ চলছে, এবং দ্রুতই পানি নিষ্কাশন হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব জানান, ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

উপসংহার

কেশবপুরের বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত করছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বন্যার পানি নিষ্কাশন ও স্কুল মাঠ উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

কেশবপুরে বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শ্রেণি কার্যক্রম স্থবির

আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪

সম্প্রতি কেশবপুরে বন্যার কারণে ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, আবার কিছু স্কুলের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বিকল্প স্থানে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বন্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুরে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কলেজ, ৩১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের ১০৪টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার কারণে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থী চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

কেশবপুরে বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শ্রেণি কার্যক্রম স্থবির
ছবি: ইনসাফ বিশ্ব

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস অন্য স্থানে নিতে হচ্ছে। কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় ব্রহ্মা জানান, তার বিদ্যালয়টি প্রায় দুই মাস ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। শুধুমাত্র অফিসকক্ষে নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, এবং বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্য দিয়ে ১৫০ ফুট বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে।

মাঠের পানি ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা থেকে বঞ্চনা

বন্যার পানিতে মাঠ তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা বন্যার পানি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বাধা সৃষ্টি করছে। একইভাবে, রাজনগর বাঁকাবর্শী মোড়লপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের পাশে মকবুল হোসেনের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব

উপজেলার মধ্যকুল মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। কেশবপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ১টি সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ৩১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি মাদ্রাসার মাঠে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, হরিহর, বুড়িভদ্রা ও আপারভদ্রা নদীর পলি অপসারণের খনন কাজ চলছে, এবং দ্রুতই পানি নিষ্কাশন হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব জানান, ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

উপসংহার

কেশবপুরের বন্যায় প্লাবিত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত করছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বন্যার পানি নিষ্কাশন ও স্কুল মাঠ উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :