বাংলাদেশ ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান ০২

লেখক: ইমরান হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 198

ছবি: লেখক ইমরান হোসেন

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

(দ্বিতীয় পর্ব: নীরবতার জাল ও নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষা)

প্রথম সাক্ষাতের পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে। লাইব্রেরির সেই সংরক্ষণ কক্ষটি এখন হৃদয়ের কাছে আর নিছক কর্মস্থল নয়, বরং এক পবিত্র তীর্থস্থান, যেখানে তিনি একইসাথে আবেগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সাধনা করেন। দিয়া প্রায় প্রতিদিনই আসত, কিন্তু এখন আর পাণ্ডুলিপির সন্ধানে নয়, যেন এক অদৃশ্য টানে। সে বসত হৃদয়ের কাজের টেবিল থেকে কিছুটা দূরে, তার তুলি আর স্কেচবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকত।

দিয়ার উপস্থিতি হৃদয়ের জীবনে এক নীরবতা তৈরি করল, যা ছিল বাইরের সমস্ত কোলাহল থেকে আরও গভীর। হৃদয়ের পক্ষে এখন মনোযোগ দিয়ে কাজ করা কঠিন। তিনি যখনই কোনো পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা করতে বসতেন, তখনই দিয়ার চঞ্চলতা, তার হাসির মৃদু শব্দ বা তার কৌতূহলী দৃষ্টি

হৃদয়ের মনোযোগ কেড়ে নিত। এই অসমবয়সী আকর্ষণ হৃদয়ের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল।

হৃদয় জানেন, দিয়া শুধু তাঁর মহান মালিকের এক সুন্দর সৃষ্টি। দিয়াকে দেখা মানে সৃষ্টিকর্তার মহত্বকে উপলব্ধি করা। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধির আড়ালে মানব হৃদয়ের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষাটিও জেগে উঠছিল। তাঁর মনে হতো, দিয়া যেন এক নিষিদ্ধ ফল, যার দিকে তাকাতেও এক ধরনের পাপবোধ কাজ করে। কিন্তু দিয়ার প্রতি তাঁর এই ভালো লাগা, এই নীরব ভালোবাসা—একে তিনি পাপ ভাবতে পারতেন না, কারণ তিনি এর মধ্যে কোনো জাগতিক কামনা খুঁজছিলেন না, খুঁজছিলেন কেবল এক নিষ্কাম সংযোগ

দিয়ার সরলতা, তার তারুণ্যের উজ্জ্বলতা হৃদয়ের মনে তীব্র কষ্ট দিত। এই কষ্ট ছিল অনুভূতির প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা। সমাজে প্রতিষ্ঠিত সীমানা, দিয়ার বয়স, আর হৃদয়ের নিজের মূল্যবোধ—সবকিছু মিলে তাঁকে একটি অদৃশ্য প্রাচীরের ওপারে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল।

একদিন দিয়া এসে হৃদয়ের কাছে একটি পুরোনো আরবি ক্যালিগ্রাফির অর্থ জানতে চাইল। দিয়া তার স্কেচবুকটি নিয়ে হৃদয়ের পাশে দাঁড়াল। হৃদয়ের এত কাছে দিয়ার উপস্থিতি তাঁর ভেতরে এক তীব্র আলোড়ন তুলল। দিয়ার মুখের মিষ্টি ঘ্রাণ, তার অনুসন্ধিৎসু চোখ—হৃদয়ের সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন সতর্ক হয়ে উঠল।

হৃদয় দ্রুত নিজেকে সামলে নিলেন। শ্বাস নিলেন, এবং ক্যালিগ্রাফিটির অর্থ ব্যাখ্যা করলেন। সেটি ছিল মালিকের এক নাম এবং তাঁর মহত্ত্বের বর্ণনা। দিয়া মুগ্ধ হয়ে শুনল। সেই মুহূর্তে হৃদয়ের মনে হলো, মালিকের মহত্বের মাধ্যমেই দিয়া তাঁর কাছে এল, এবং মালিকের মহত্বের কারণেই তাঁকে এই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই দূরত্বই তাঁর ইবাদত।

হৃদয় নীরবে সিদ্ধান্ত নিলেন—তাঁর এই প্রেম কোনো সাধারণ পরিণতি পাবে না। এই প্রেম হবে আত্মত্যাগের প্রতীক, এক অমর কাহিনি যা লিখিত হবে নীরবতা, ধৈর্য ও প্রার্থনার কালিতে।

চলবে……….

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান ০২

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

(দ্বিতীয় পর্ব: নীরবতার জাল ও নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষা)

প্রথম সাক্ষাতের পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে। লাইব্রেরির সেই সংরক্ষণ কক্ষটি এখন হৃদয়ের কাছে আর নিছক কর্মস্থল নয়, বরং এক পবিত্র তীর্থস্থান, যেখানে তিনি একইসাথে আবেগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সাধনা করেন। দিয়া প্রায় প্রতিদিনই আসত, কিন্তু এখন আর পাণ্ডুলিপির সন্ধানে নয়, যেন এক অদৃশ্য টানে। সে বসত হৃদয়ের কাজের টেবিল থেকে কিছুটা দূরে, তার তুলি আর স্কেচবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকত।

দিয়ার উপস্থিতি হৃদয়ের জীবনে এক নীরবতা তৈরি করল, যা ছিল বাইরের সমস্ত কোলাহল থেকে আরও গভীর। হৃদয়ের পক্ষে এখন মনোযোগ দিয়ে কাজ করা কঠিন। তিনি যখনই কোনো পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা করতে বসতেন, তখনই দিয়ার চঞ্চলতা, তার হাসির মৃদু শব্দ বা তার কৌতূহলী দৃষ্টি

হৃদয়ের মনোযোগ কেড়ে নিত। এই অসমবয়সী আকর্ষণ হৃদয়ের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল।

হৃদয় জানেন, দিয়া শুধু তাঁর মহান মালিকের এক সুন্দর সৃষ্টি। দিয়াকে দেখা মানে সৃষ্টিকর্তার মহত্বকে উপলব্ধি করা। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধির আড়ালে মানব হৃদয়ের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষাটিও জেগে উঠছিল। তাঁর মনে হতো, দিয়া যেন এক নিষিদ্ধ ফল, যার দিকে তাকাতেও এক ধরনের পাপবোধ কাজ করে। কিন্তু দিয়ার প্রতি তাঁর এই ভালো লাগা, এই নীরব ভালোবাসা—একে তিনি পাপ ভাবতে পারতেন না, কারণ তিনি এর মধ্যে কোনো জাগতিক কামনা খুঁজছিলেন না, খুঁজছিলেন কেবল এক নিষ্কাম সংযোগ

দিয়ার সরলতা, তার তারুণ্যের উজ্জ্বলতা হৃদয়ের মনে তীব্র কষ্ট দিত। এই কষ্ট ছিল অনুভূতির প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা। সমাজে প্রতিষ্ঠিত সীমানা, দিয়ার বয়স, আর হৃদয়ের নিজের মূল্যবোধ—সবকিছু মিলে তাঁকে একটি অদৃশ্য প্রাচীরের ওপারে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল।

একদিন দিয়া এসে হৃদয়ের কাছে একটি পুরোনো আরবি ক্যালিগ্রাফির অর্থ জানতে চাইল। দিয়া তার স্কেচবুকটি নিয়ে হৃদয়ের পাশে দাঁড়াল। হৃদয়ের এত কাছে দিয়ার উপস্থিতি তাঁর ভেতরে এক তীব্র আলোড়ন তুলল। দিয়ার মুখের মিষ্টি ঘ্রাণ, তার অনুসন্ধিৎসু চোখ—হৃদয়ের সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন সতর্ক হয়ে উঠল।

হৃদয় দ্রুত নিজেকে সামলে নিলেন। শ্বাস নিলেন, এবং ক্যালিগ্রাফিটির অর্থ ব্যাখ্যা করলেন। সেটি ছিল মালিকের এক নাম এবং তাঁর মহত্ত্বের বর্ণনা। দিয়া মুগ্ধ হয়ে শুনল। সেই মুহূর্তে হৃদয়ের মনে হলো, মালিকের মহত্বের মাধ্যমেই দিয়া তাঁর কাছে এল, এবং মালিকের মহত্বের কারণেই তাঁকে এই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই দূরত্বই তাঁর ইবাদত।

হৃদয় নীরবে সিদ্ধান্ত নিলেন—তাঁর এই প্রেম কোনো সাধারণ পরিণতি পাবে না। এই প্রেম হবে আত্মত্যাগের প্রতীক, এক অমর কাহিনি যা লিখিত হবে নীরবতা, ধৈর্য ও প্রার্থনার কালিতে।

চলবে……….

সংবাদটি শেয়ার করুন :