বাংলাদেশ ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান : পর্ব ০৩

লেখক: ইমরান হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 181

ছবি: লেখক ইমরান হোসেন

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

(তৃতীয় পর্ব: আকাঙ্ক্ষার ডায়েরি ও দূরত্বের ইবাদত)

হৃদয়ের ভেতরের অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছিল। দিয়ার উপস্থিতি তাঁর জীবনের প্রতিটি কাঠামোকে প্রশ্ন করছিল। লাইব্রেরির কোণে বসে যখন দিয়া মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখত, তখন হৃদয়ের মনে হতো তার চারপাশে এক স্বর্গীয় নীরবতা বিরাজ করছে। এই নীরবতা হৃদয়কে আরও বেশি করে আত্মসংযমের পথে ঠেলে দিচ্ছিল।

এক রাতে, ঘুম না আসায় হৃদয় তাঁর গোপন ডায়েরি হাতে নিলেন। এটিই তাঁর একমাত্র আশ্রয়, যেখানে তিনি তাঁর অপ্রকাশিত সব অনুভূতি উজাড় করে দেন। ডায়েরির পাতায় তিনি লিখতে শুরু করলেন: “মালিক, তোমার সৃষ্টি এত সুন্দর কেন? কেন এই সৌন্দর্য আমার দায়িত্বের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়? আমি দিয়াকে চাই, কিন্তু আমার এই চাওয়া যেন তার জীবনের পথে কোনো ক্ষতিকর ছায়া না ফেলে।”

ডায়েরিতে তিনি দিয়ার সামান্যতম অভিব্যক্তি, তার স্কেচ করার ভঙ্গি, এমনকি তার নিঃশ্বাসের শব্দটিও যত্নের সঙ্গে লিখতেন। এই লেখাগুলো ছিল তাঁর আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ, যা বাস্তব জীবনে তিনি করতে পারতেন না। এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত মুক্তির পথ, যেখানে তিনি প্রেমিক এবং পথপ্রদর্শক—এই দুই সত্তাকে আলাদা করে রাখতে পারতেন।

হৃদয় বুঝতে পারলেন, দিয়াকে কাছে পাওয়ার চিন্তা ত্যাগ করাই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় ইবাদত। তিনি এই দূরত্বকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবে গ্রহণ করলেন। তিনি লাইব্রেরিতে নিজের কাজের সময়সূচি আরও কঠোর করলেন। তিনি নিজেকে এমনভাবে ব্যস্ত রাখতেন যেন তাঁর মনের কোনো ফাঁকা জায়গায় দিয়ার চিন্তা এসে বাসা বাঁধতে না পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর মালিকের মহত্ত্ব এই সংযমের মধ্যেই নিহিত।

অন্যদিকে, দিয়া হৃদয়কে একজন প্রাজ্ঞ, জ্ঞানী এবং নীরব পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল। সে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করত। দিয়ার সরল মন কখনোই হৃদয়ের ভেতরের এই তুমুল সংগ্রামের আঁচ পায়নি। হৃদয়ের সংযত আচরণ দিয়াকে আরও বেশি নিরাপত্তা দিত। দিয়া জানত না, তার প্রতি হৃদয়ের এই সংযমই ছিল নিষ্কাম প্রেমের সর্বোচ্চ স্তর।

একদিন বিকেলে দিয়া লাইব্রেরির একটি বই টেবিলে রেখে যাওয়ার সময় বলল, “হৃদয় ভাই, আপনি সবসময় এত শান্ত থাকেন কীভাবে? মনে হয় আপনার ভেতরে কোনো ঝড় নেই।”

দিয়ার এই কথাটি হৃদয়ের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধল।তিনি ভেতরে ভেতরে হাসলেন। শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, “শান্তি তো বাইরে নয়, দিয়া। শান্তি কেবল তখনই আসে যখন মানুষ তার ভেতরের ঝড়কে মালিকের হাতে সঁপে দেয়।”

দিয়া হয়তো সেই কথার গভীরতা বুঝতে পারল না, কিন্তু হৃদয় বুঝতে পারলেন—তাঁর দূরত্বের ইবাদত তাঁকে ভুল পথে যেতে দেয়নি। এই নীরব ত্যাগই ছিল তাদের অসম প্রেমের অমরত্বের প্রথম ধাপ।

চলবে………

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান : পর্ব ০৩

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

(তৃতীয় পর্ব: আকাঙ্ক্ষার ডায়েরি ও দূরত্বের ইবাদত)

হৃদয়ের ভেতরের অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছিল। দিয়ার উপস্থিতি তাঁর জীবনের প্রতিটি কাঠামোকে প্রশ্ন করছিল। লাইব্রেরির কোণে বসে যখন দিয়া মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখত, তখন হৃদয়ের মনে হতো তার চারপাশে এক স্বর্গীয় নীরবতা বিরাজ করছে। এই নীরবতা হৃদয়কে আরও বেশি করে আত্মসংযমের পথে ঠেলে দিচ্ছিল।

এক রাতে, ঘুম না আসায় হৃদয় তাঁর গোপন ডায়েরি হাতে নিলেন। এটিই তাঁর একমাত্র আশ্রয়, যেখানে তিনি তাঁর অপ্রকাশিত সব অনুভূতি উজাড় করে দেন। ডায়েরির পাতায় তিনি লিখতে শুরু করলেন: “মালিক, তোমার সৃষ্টি এত সুন্দর কেন? কেন এই সৌন্দর্য আমার দায়িত্বের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়? আমি দিয়াকে চাই, কিন্তু আমার এই চাওয়া যেন তার জীবনের পথে কোনো ক্ষতিকর ছায়া না ফেলে।”

ডায়েরিতে তিনি দিয়ার সামান্যতম অভিব্যক্তি, তার স্কেচ করার ভঙ্গি, এমনকি তার নিঃশ্বাসের শব্দটিও যত্নের সঙ্গে লিখতেন। এই লেখাগুলো ছিল তাঁর আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ, যা বাস্তব জীবনে তিনি করতে পারতেন না। এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত মুক্তির পথ, যেখানে তিনি প্রেমিক এবং পথপ্রদর্শক—এই দুই সত্তাকে আলাদা করে রাখতে পারতেন।

হৃদয় বুঝতে পারলেন, দিয়াকে কাছে পাওয়ার চিন্তা ত্যাগ করাই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় ইবাদত। তিনি এই দূরত্বকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবে গ্রহণ করলেন। তিনি লাইব্রেরিতে নিজের কাজের সময়সূচি আরও কঠোর করলেন। তিনি নিজেকে এমনভাবে ব্যস্ত রাখতেন যেন তাঁর মনের কোনো ফাঁকা জায়গায় দিয়ার চিন্তা এসে বাসা বাঁধতে না পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর মালিকের মহত্ত্ব এই সংযমের মধ্যেই নিহিত।

অন্যদিকে, দিয়া হৃদয়কে একজন প্রাজ্ঞ, জ্ঞানী এবং নীরব পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল। সে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করত। দিয়ার সরল মন কখনোই হৃদয়ের ভেতরের এই তুমুল সংগ্রামের আঁচ পায়নি। হৃদয়ের সংযত আচরণ দিয়াকে আরও বেশি নিরাপত্তা দিত। দিয়া জানত না, তার প্রতি হৃদয়ের এই সংযমই ছিল নিষ্কাম প্রেমের সর্বোচ্চ স্তর।

একদিন বিকেলে দিয়া লাইব্রেরির একটি বই টেবিলে রেখে যাওয়ার সময় বলল, “হৃদয় ভাই, আপনি সবসময় এত শান্ত থাকেন কীভাবে? মনে হয় আপনার ভেতরে কোনো ঝড় নেই।”

দিয়ার এই কথাটি হৃদয়ের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধল।তিনি ভেতরে ভেতরে হাসলেন। শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, “শান্তি তো বাইরে নয়, দিয়া। শান্তি কেবল তখনই আসে যখন মানুষ তার ভেতরের ঝড়কে মালিকের হাতে সঁপে দেয়।”

দিয়া হয়তো সেই কথার গভীরতা বুঝতে পারল না, কিন্তু হৃদয় বুঝতে পারলেন—তাঁর দূরত্বের ইবাদত তাঁকে ভুল পথে যেতে দেয়নি। এই নীরব ত্যাগই ছিল তাদের অসম প্রেমের অমরত্বের প্রথম ধাপ।

চলবে………

সংবাদটি শেয়ার করুন :