বাংলাদেশ ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির পরাজয়

ন্যাশনাল কনফারেন্সের জয়ে নতুন অধ্যায়

ইনসাফ বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪
  • / 290
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজেপি জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। ভারতের দুই রাজ্য হরিয়ানা এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার পর, দেশটির নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে। জম্মু-কাশ্মীরে ক্ষমতায় আসছে মুসলিম প্রধান দল জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি)। হরিয়ানায় বিজেপির জয়ের খবরের মাঝেও জম্মু-কাশ্মীরের পরাজয় বড় রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভার ৯০টি আসনের মধ্যে, ফারুক আবদুল্লাহ এবং তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল জেকেএনসি ৪২টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজেপি ২৮টি আসন পেয়েছে, এবং কংগ্রেস পেয়েছে ৮টি আসন। বাকি ১২টি আসনে জয়লাভ করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল। যদিও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ৪৬টি আসনের প্রয়োজন, জেকেএনসি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সহযোগিতার কারণে সরকার গঠন করতে সমস্যা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, উভয় দলই বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র অংশ।

হরিয়ানায় ৯০টি আসনের মধ্যে ৪৯টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৪৬টি আসন। কংগ্রেস ৩৬টি আসনে জয়লাভ করেছে, এবং বাকি ৫টি আসন দখল করেছে অন্যান্য দল। নির্বাচনের আগে বুথফেরত জরিপে কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হলেও, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা বিজেপির ওপরই ভরসা রাখে। হরিয়ানায় বিজেপি ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে, যদিও ২০২১ সালের কৃষক আন্দোলনের কারণে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবুও, ভোটারদের সমর্থন ধরে রেখে বিজেপি আবারও সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

জেকেএনসির জয়ে ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকরা এটিকে ‘মহাকাব্যিক’ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করছেন। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা কেড়ে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স সেই সময় জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেকেএনসির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং ওমর আবদুল্লাহকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

সেই সময় থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে বিজেপির আধিপত্য আরও সুসংহত হবে। তবে বর্তমান ফলাফল সেই ধারনার সম্পূর্ণ বিপরীত। জেকেএনসির এই জয় তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক বড় উদাহরণ। এই নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে জম্মু-কাশ্মীরের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। মুসলিম প্রধান এ অঞ্চলে বিজেপি কখনও প্রভাবশালী দল ছিল না। তবে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর, বিজেপি এখানকার নির্বাচনে বিশেষ মনোযোগ দেয়। জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদের আস্থা রাখে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওপর। ফারুক আবদুল্লাহ এবং ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আবারও তাদের জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

উপসংহার

জেকেএনসির জম্মু-কাশ্মীরে বিজয় এবং বিজেপির হরিয়ানায় জয়—এই দুটি নির্বাচন ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যে দুইটি ভিন্ন বার্তা প্রেরণ করছে। জম্মু-কাশ্মীরের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং কংগ্রেস মিলে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। হরিয়ানায় বিজেপি তাদের পুরোনো শক্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির পরাজয়

ন্যাশনাল কনফারেন্সের জয়ে নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০১:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪

বিজেপি জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। ভারতের দুই রাজ্য হরিয়ানা এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার পর, দেশটির নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে। জম্মু-কাশ্মীরে ক্ষমতায় আসছে মুসলিম প্রধান দল জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি)। হরিয়ানায় বিজেপির জয়ের খবরের মাঝেও জম্মু-কাশ্মীরের পরাজয় বড় রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভার ৯০টি আসনের মধ্যে, ফারুক আবদুল্লাহ এবং তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল জেকেএনসি ৪২টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজেপি ২৮টি আসন পেয়েছে, এবং কংগ্রেস পেয়েছে ৮টি আসন। বাকি ১২টি আসনে জয়লাভ করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল। যদিও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ৪৬টি আসনের প্রয়োজন, জেকেএনসি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সহযোগিতার কারণে সরকার গঠন করতে সমস্যা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, উভয় দলই বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র অংশ।

হরিয়ানায় ৯০টি আসনের মধ্যে ৪৯টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৪৬টি আসন। কংগ্রেস ৩৬টি আসনে জয়লাভ করেছে, এবং বাকি ৫টি আসন দখল করেছে অন্যান্য দল। নির্বাচনের আগে বুথফেরত জরিপে কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হলেও, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা বিজেপির ওপরই ভরসা রাখে। হরিয়ানায় বিজেপি ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে, যদিও ২০২১ সালের কৃষক আন্দোলনের কারণে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবুও, ভোটারদের সমর্থন ধরে রেখে বিজেপি আবারও সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

জেকেএনসির জয়ে ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকরা এটিকে ‘মহাকাব্যিক’ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করছেন। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা কেড়ে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স সেই সময় জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেকেএনসির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং ওমর আবদুল্লাহকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

সেই সময় থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে বিজেপির আধিপত্য আরও সুসংহত হবে। তবে বর্তমান ফলাফল সেই ধারনার সম্পূর্ণ বিপরীত। জেকেএনসির এই জয় তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক বড় উদাহরণ। এই নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে জম্মু-কাশ্মীরের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। মুসলিম প্রধান এ অঞ্চলে বিজেপি কখনও প্রভাবশালী দল ছিল না। তবে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর, বিজেপি এখানকার নির্বাচনে বিশেষ মনোযোগ দেয়। জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদের আস্থা রাখে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওপর। ফারুক আবদুল্লাহ এবং ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আবারও তাদের জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

উপসংহার

জেকেএনসির জম্মু-কাশ্মীরে বিজয় এবং বিজেপির হরিয়ানায় জয়—এই দুটি নির্বাচন ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যে দুইটি ভিন্ন বার্তা প্রেরণ করছে। জম্মু-কাশ্মীরের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং কংগ্রেস মিলে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। হরিয়ানায় বিজেপি তাদের পুরোনো শক্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :