বাংলাদেশ ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

রিজার্ভ ছাড়াই ১৮ হাজার কোটি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪
  • / 239
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ব্যাংক গত দুই মাসে রিজার্ভ থেকে কোনো অর্থ ব্যবহার না করেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা) ঋণ পরিশোধ করেছে। এর ফলে দেশের পণ্য আমদানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব ঋণ পরিশোধ করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। এই মুহূর্তে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা না করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার মতো পণ্যের আমদানিতে নির্ভরশীল, যার পেছনে গত অর্থবছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে, গত দুই বছরে ডলার সংকটের কারণে সময়মতো এসব ব্যয় পরিশোধ করা যায়নি।

এতে আদানি, কাফকো এবং শেভরনের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রায় সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারের দেনা জমে যায়। তবে গত দুই মাসে রিজার্ভে হাত না দিয়েই ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অংশও আগামী দুই মাসে পরিশোধের আশা করছেন গভর্নর।

ড. আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, সরকারের ২.৫ বিলিয়ন ডলারের দেনা ছিল, যা কমিয়ে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়েছে। সারের জন্য, বিদ্যুতের জন্য এবং আদানি-শেভরনকে দেওয়া ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব দেনা শূন্যতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ কমবে এবং বাজারে লিকুইডিটি বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের চাপ সামাল দিতে অন্তত এক বছরের ধৈর্যের প্রয়োজন বলে মনে করেন গভর্নর।

তিনি বলেন, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেলে সরকারের ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে। যদিও বিনিয়োগ এখন কম হবে, তবে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

রিজার্ভ ছাড়াই ১৮ হাজার কোটি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংক গত দুই মাসে রিজার্ভ থেকে কোনো অর্থ ব্যবহার না করেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা) ঋণ পরিশোধ করেছে। এর ফলে দেশের পণ্য আমদানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব ঋণ পরিশোধ করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। এই মুহূর্তে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা না করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার মতো পণ্যের আমদানিতে নির্ভরশীল, যার পেছনে গত অর্থবছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে, গত দুই বছরে ডলার সংকটের কারণে সময়মতো এসব ব্যয় পরিশোধ করা যায়নি।

এতে আদানি, কাফকো এবং শেভরনের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রায় সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারের দেনা জমে যায়। তবে গত দুই মাসে রিজার্ভে হাত না দিয়েই ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অংশও আগামী দুই মাসে পরিশোধের আশা করছেন গভর্নর।

ড. আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, সরকারের ২.৫ বিলিয়ন ডলারের দেনা ছিল, যা কমিয়ে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়েছে। সারের জন্য, বিদ্যুতের জন্য এবং আদানি-শেভরনকে দেওয়া ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব দেনা শূন্যতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ কমবে এবং বাজারে লিকুইডিটি বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের চাপ সামাল দিতে অন্তত এক বছরের ধৈর্যের প্রয়োজন বলে মনে করেন গভর্নর।

তিনি বলেন, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেলে সরকারের ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে। যদিও বিনিয়োগ এখন কম হবে, তবে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :