অর্থ পাচার রোধে শুধু কাগুজে নিরীক্ষা নয়, উৎস ও গন্তব্য খতিয়ে দেখার আহ্বান
কোম্পানিগুলোর ‘জিনিয়াস কৌশলেই’ অর্থ পাচার হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 138
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে ইআরএফ ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের অর্থ পাচার পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছে যে তারা সরকারের নজরদারির বাইরে থেকেও চতুর কৌশলে অর্থ পাচার করছে।
ড. সালেহউদ্দিন জানান, পাচারকারীরা অর্থ সরাসরি পাঠায় না। ধাপে ধাপে—প্রথমে এক জায়গা, পরে অন্যত্র—এভাবে লেয়ারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার করা হয়। কোম্পানিগুলো এমন জটিল কাঠামো তৈরি করেছে যা এখন ধরা পড়তে শুরু করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “শুধু ফর্মাল নিরীক্ষা যথেষ্ট নয়। কোথা থেকে অর্থ আসছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু গণমাধ্যম দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ পরিবেশন করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিকে উৎসাহিত করছে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখনো ইতিবাচক। উন্নয়ন সহযোগীরা দেশ সম্পর্কে আশাবাদী। যদিও সরকারের সব কার্যক্রম নিখুঁত নয়, তবে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের অগ্রগতি প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, গত বছরের বাজেট ছোট এবং বাস্তবসম্মতভাবে প্রণয়ন করায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, করপোরেট সেক্টরে স্বচ্ছতা আনার জন্য নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মান উন্নত করতে হবে। আর্থিক প্রতিবেদনে সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন জরুরি, যাতে ব্যাংক ঋণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হয়।



















