বাংলাদেশ ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারে সহযোগিতার আশ্বাস

বিশ্বনেতাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আবেগাপ্লুত ড. ইউনূস

ইনসাফ বিশ্ব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 120

ছবি: সংগৃহীত

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে এক বিরল দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোটেল স্যুটে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি পেয়ে যান অবিশ্বাস্য সমর্থন ও শুভেচ্ছা।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গারের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদল ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেয়। তারা বলেন, “আমরা এসেছি আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন দিতে। আমরা পুরোপুরি আপনার পাশে আছি।”

নেতারা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা একমত হন যে, ১৬ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি ও শোষণের পর বাংলাদেশ এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে দেশের পরিস্থিতিকে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এ দেশ ১৫ বছরব্যাপী একটা ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।”

তিনি যোগ করেন, জনগণ রাতারাতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কেরি কেনেডি বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের অর্জন সত্যিই অসাধারণ।”

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আইএইএ ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

বিপুল সমর্থন পেয়ে আবেগাপ্লুত ড. ইউনূস বলেন, “এটা আমার জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একত্রে সমর্থন আমার জন্য বিশাল প্রেরণা।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারে সহযোগিতার আশ্বাস

বিশ্বনেতাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আবেগাপ্লুত ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে এক বিরল দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোটেল স্যুটে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি পেয়ে যান অবিশ্বাস্য সমর্থন ও শুভেচ্ছা।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গারের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদল ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেয়। তারা বলেন, “আমরা এসেছি আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন দিতে। আমরা পুরোপুরি আপনার পাশে আছি।”

নেতারা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা একমত হন যে, ১৬ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি ও শোষণের পর বাংলাদেশ এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে দেশের পরিস্থিতিকে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এ দেশ ১৫ বছরব্যাপী একটা ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।”

তিনি যোগ করেন, জনগণ রাতারাতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কেরি কেনেডি বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের অর্জন সত্যিই অসাধারণ।”

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আইএইএ ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

বিপুল সমর্থন পেয়ে আবেগাপ্লুত ড. ইউনূস বলেন, “এটা আমার জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একত্রে সমর্থন আমার জন্য বিশাল প্রেরণা।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :