বাংলাদেশ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না মতিয়া চৌধুরীর

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
  • / 335
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের ছয়বারের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, মন্ত্রী এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী আর নেই। বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর, নালিতাবাড়ী ও নকলার সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য। মতিয়া চৌধুরী একাধিক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তার লাশ যেন তার নির্বাচনী এলাকা নালিতাবাড়ীর শাহী মসজিদ গোরস্থানে সাধারণ মানুষের পাশে দাফন করা হয়। সেই সাথে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তার কবর যেন পাকা করা না হয়। তবে, পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে তাকে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ঘোষণায় এলাকাবাসী মানসিকভাবে বেশ ব্যথিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ বকুল বলেন, “মতিয়া আপার মৃত্যুর খবর শুনেই ঢাকায় যাই, তার অসিয়ত রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আমাদের অনুরোধ শোনেননি।”

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মোশারফ হোসেন জানান, সাধারণ মানুষের পক্ষে তার মরদেহ নালিতাবাড়ী ও নকলায় এনে জানাজা শেষে দাফন করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তবে, তাতেও মতিয়া চৌধুরীর পরিবার সম্মতি দেননি।

মতিয়া চৌধুরীর ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এলাকার মানুষের দাবি থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাকে নির্বাচনী এলাকায় নেওয়া হচ্ছে না। বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সিটি করপোরেশনের কাছে দাফনের জন্য জায়গা চাওয়া হয়েছে। সেখানে জায়গা না পেলে তার স্বামী বজলুর রহমানের কবরেই তাকে দাফন করা হবে।

মতিয়া চৌধুরী ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো শেরপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সাল ছাড়া প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। দীর্ঘ ৩৩ বছর তিনি নালিতাবাড়ী ও নকলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন। তিনি স্থলবন্দর, রাবার বাঁধ, ইকোপার্ক, রাস্তা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া সাহায্য নিজ হাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন।

মতিয়া চৌধুরী চলে গেলেও, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা চিরকাল অম্লান থাকবে।

আরো পড়ুন 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না মতিয়া চৌধুরীর

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের ছয়বারের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, মন্ত্রী এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী আর নেই। বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর, নালিতাবাড়ী ও নকলার সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য। মতিয়া চৌধুরী একাধিক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তার লাশ যেন তার নির্বাচনী এলাকা নালিতাবাড়ীর শাহী মসজিদ গোরস্থানে সাধারণ মানুষের পাশে দাফন করা হয়। সেই সাথে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তার কবর যেন পাকা করা না হয়। তবে, পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে তাকে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ঘোষণায় এলাকাবাসী মানসিকভাবে বেশ ব্যথিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ বকুল বলেন, “মতিয়া আপার মৃত্যুর খবর শুনেই ঢাকায় যাই, তার অসিয়ত রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আমাদের অনুরোধ শোনেননি।”

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মোশারফ হোসেন জানান, সাধারণ মানুষের পক্ষে তার মরদেহ নালিতাবাড়ী ও নকলায় এনে জানাজা শেষে দাফন করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তবে, তাতেও মতিয়া চৌধুরীর পরিবার সম্মতি দেননি।

মতিয়া চৌধুরীর ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এলাকার মানুষের দাবি থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাকে নির্বাচনী এলাকায় নেওয়া হচ্ছে না। বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সিটি করপোরেশনের কাছে দাফনের জন্য জায়গা চাওয়া হয়েছে। সেখানে জায়গা না পেলে তার স্বামী বজলুর রহমানের কবরেই তাকে দাফন করা হবে।

মতিয়া চৌধুরী ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো শেরপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সাল ছাড়া প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। দীর্ঘ ৩৩ বছর তিনি নালিতাবাড়ী ও নকলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন। তিনি স্থলবন্দর, রাবার বাঁধ, ইকোপার্ক, রাস্তা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া সাহায্য নিজ হাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন।

মতিয়া চৌধুরী চলে গেলেও, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা চিরকাল অম্লান থাকবে।

আরো পড়ুন 

সংবাদটি শেয়ার করুন :