ইসরায়েল মন্ত্রিসভায় লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪
- / 332
ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পক্ষে যুক্তি
বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তির ফলে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারবেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনারা হিজবুল্লাহকে পিছু হটিয়ে কয়েক দশক আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি হিজবুল্লাহ চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে ইসরায়েল তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাবে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে দেবে এবং ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলকে আরও মনোযোগী হতে সহায়তা করবে।
মার্কিন সমর্থন ও ভূমিকা
যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউস। এর আগে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি এবং হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেমও চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলের সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সিএনএন বিশ্লেষক বারাক রাভিদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত আমোস হোচেস্টেইন ইসরায়েলের ওপর চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল শর্ত
যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে খসড়া চুক্তি অনুযায়ী:
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ হবে ৬০ দিন।
দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
৬০ দিনের মধ্যে লেবানন সীমান্তে নিজ দেশের সেনা মোতায়েন করবে।
জাতিসংঘের ‘১৭০১ রেজল্যুশন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর পেছনে ৩০ কিলোমিটার ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
চুক্তি বাস্তবায়নে ফ্রান্সসহ পাঁচটি দেশ তদারকি করবে, যার নেতৃত্বে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন দাবি করেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েল ধরে রাখবে।
সম্প্রতি সংঘাতের পরিস্থিতি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকেই হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বরে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যেখানে ইসরায়েল স্থল অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ।
চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মাঝেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালায়। মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর ৩০টি অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। এ সময় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়া এবং টেকসই হওয়া নির্ভর করবে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর।















