বাংলাদেশ ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

ঈদের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে রক্তবন্যা: নেপথ্যে কারা?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 1

ছবি: সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদ

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ নামের ওই উপাসনালয়ে দুই কিশোর বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নিরাপত্তাকর্মী ও দুই পথচারীসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা ও হজের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ঘটা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​হামলার পর সন্দেহভাজন দুই হামলাকারী কিশোরকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, তারা নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছে।

মায়ের ফোন এবং চিরকুটের রহস্য

​সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনাটিকে একটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ (হেট ক্রাইম) হিসেবে দেখছেন তারা। ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-ও যুক্ত হয়েছে।

​তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তাঁর ছেলে মারাত্মক আত্মহত্যার প্রবণতায় ভুগছিল। সে বাড়ি থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গাড়ি নিয়ে অন্য এক ছদ্মবেশী সঙ্গীকেসহ পালিয়ে গেছে। পুলিশ যখন বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক টহল পাঠাচ্ছিল, ঠিক তখনই মসজিদে এই হামলা হয়। পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই কিশোর একটি চিরকুট রেখে গেলেও পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি।

নিরাপত্তাকর্মীর বীরত্ব ও অলৌকিক বেঁচে ফেরা

​কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে যখন এই গুলির ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদ কমপ্লেক্সের ডে-স্কুলে থাকা সমস্ত শিশু সুরক্ষিত ছিল। নিহত সাহসী নিরাপত্তাকর্মীর দ্রুত ও বিচক্ষণ পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

​মসজিদের ঘটনার কাছাকাছি সময়ে কয়েক ব্লক দূরে একজন বাগানকর্মীর ওপরও গুলি চালায় ওই কিশোররা। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করার এই নির্মমতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড়

​সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি। ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মসজিদগুলোতেও ইতিমধ্যে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

ঈদের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে রক্তবন্যা: নেপথ্যে কারা?

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ নামের ওই উপাসনালয়ে দুই কিশোর বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নিরাপত্তাকর্মী ও দুই পথচারীসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা ও হজের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ঘটা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​হামলার পর সন্দেহভাজন দুই হামলাকারী কিশোরকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, তারা নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছে।

মায়ের ফোন এবং চিরকুটের রহস্য

​সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনাটিকে একটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ (হেট ক্রাইম) হিসেবে দেখছেন তারা। ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-ও যুক্ত হয়েছে।

​তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তাঁর ছেলে মারাত্মক আত্মহত্যার প্রবণতায় ভুগছিল। সে বাড়ি থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গাড়ি নিয়ে অন্য এক ছদ্মবেশী সঙ্গীকেসহ পালিয়ে গেছে। পুলিশ যখন বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক টহল পাঠাচ্ছিল, ঠিক তখনই মসজিদে এই হামলা হয়। পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই কিশোর একটি চিরকুট রেখে গেলেও পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি।

নিরাপত্তাকর্মীর বীরত্ব ও অলৌকিক বেঁচে ফেরা

​কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে যখন এই গুলির ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদ কমপ্লেক্সের ডে-স্কুলে থাকা সমস্ত শিশু সুরক্ষিত ছিল। নিহত সাহসী নিরাপত্তাকর্মীর দ্রুত ও বিচক্ষণ পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

​মসজিদের ঘটনার কাছাকাছি সময়ে কয়েক ব্লক দূরে একজন বাগানকর্মীর ওপরও গুলি চালায় ওই কিশোররা। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করার এই নির্মমতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড়

​সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি। ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মসজিদগুলোতেও ইতিমধ্যে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :