মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গাজামুখী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’কে থামাতে কঠোর অবস্থান ইসরাইলের, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন শত শত আন্তর্জাতিক কর্মী।
গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ঘিরে ফেলেছে ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
- / 155
ইসরাইলি নৌবাহিনী ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’কে ঘিরে ফেলেছে। বুধবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১১৮ মাইল দূরে পৌঁছালে ইসরাইলি দুটি যুদ্ধজাহাজ হঠাৎ করেই বহরের দুইটি জাহাজ—‘আলমা’ ও ‘সিরিয়াস’—কে ঘিরে ধরে।
আয়োজকদের অভিযোগ, এ সময় বহরের সব ধরনের নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, যা তারা ইসরাইলি বাহিনীর একটি সাইবার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বহরে রয়েছেন ৫০০ আন্তর্জাতিক নাগরিক
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সংসদ সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন। নৌবহরে থাকা এসব জাহাজে খাদ্য ও ওষুধ বহন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইসরাইলের আরোপিত দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা চলছে।
ড্রোন হামলা ও ইসরাইলের সতর্কবার্তা
গত কয়েক দিনে ফ্লোটিলা একাধিকবার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড ও চুলকানি সৃষ্টিকারী গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয়। যদিও এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ইসরাইল আগে থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে গাজার উদ্দেশে যাত্রা ঠেকাতে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তাদের দাবি, হামাসবিরোধী যুদ্ধে নৌ-অবরোধ বৈধ।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, এ নৌবহরকে বাধা দেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে। কারণ, গাজার জলসীমায় ইসরাইলের কোনো বৈধ এখতিয়ার নেই।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ইসরাইল সেখানে নৌ-অবরোধ চালিয়ে আসছে। এর আগে বহুবার মানবিক সহায়তার জাহাজ গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করলেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের মাভি মারমারা ঘটনা, যেখানে অন্তত ৯ জন নিহত হন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
উপসংহার
ইসরাইলি অবরোধ সত্ত্বেও সুমুদ ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। ফলে এই অভিযান ঘিরে নতুন করে সংঘাত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।













