বাংলাদেশ ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

আবাসিক এলাকায় সীসা-ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি: ড. শাহাবুদ্দিনের উদ্বেগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 171
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুর -১ এ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকা মধুখালীতে ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশংকা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন আমি ফরদিপুরে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি ঢাকা অফিসের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এলাকাবাসী মনে করছে কিছু মানুষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের হীন স্বার্থে এমন জনস্বার্থ ও পরিবেশের উপর হুমকি সম্পন্ন একটি প্লান্টকে জনবহুল আবাসিক এলাকায় বছরের পর চলতে দিচ্ছে।

মধুখালীতে সীসা-ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ নিয়ে ড. শাহাবুদ্দিনের উদ্বেগ
ছবি: মানববন্ধন

এক ফেসবুক পোষ্টে তিনি লেখেন এই ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরির দূষণে পুরো এলাকা আজ চরম পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়েছে। বিষাক্ত সীসা (Lead), সালফিউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বাতাস, মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, ত্বকের রোগ, চোখ জ্বালা, কিডনি বিকলতা এবং রক্তসল্পতায় আক্রান্ত হচ্ছেন!

স্থানীয় জনগণ বেশ কয়েকবার ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো তদন্ত বা পরিদর্শন কার্যক্রম দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন উপরোক্ত ক্ষতিকর প্রভাবের আলোকে পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসাবে আমার ধারণা এই ফ্যাক্টরির নির্গমন ও বর্জ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডের সীমা অতিক্রম করছে। মধুখালীর স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি “দিনরাত এই ফ্যাক্টরি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা বলেন বারবার অভিযোগ দিয়েছি উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অফিসে, কিন্তু তারা কিছুই করছে না। বরং যারা প্রতিবাদ করছে তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন বাংলদেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই (বিভিন্ন এলাকা এবং স্যাম্পল) শিশার মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চাইতে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীসা একটি স্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক দূষক যা মাটি, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে জমে থাকে। ফ্যাক্টরির বর্জ্য আশেপাশের পুকুর ও খাল-বিলের পানিতে প্রবেশ করায় মাছ মারা যাচ্ছে, কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আশপাশের প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকা এবং খুলনা অঞ্চল হচ্ছে সীসা দূষণের হটস্পট। এই এলাকার বাতাসে শিশার পরিমান ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসাবে আমি মনে করি সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং নিদৃষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা না হলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মহা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অমানবিক।

আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন:

বাংলদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের Environmental Conservation Rules-1997 (ECR 1997)এ পানীয় জলের সীসা মান (০.০৫ mg/L) ও Bangladesh National Ambient Air Quality Standard (BNAAQS)অনুযায়ী জলাশয়ে লিডের এর সীমা ০.৫ µg/m³ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফরদিপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এখানকার এলাকার বাতাস ও পানিতে লিডের পরিমান জানতে চাইলে তারা তা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। বলেছে আমাদের এখানে সেই ধরণের কোনো কারিগরি সামর্থ নাই। অভিযুক্ত কারখানা আবাসিক এলাকায় থাকাই নীতিবিরুদ্ধ। এছাড়া শ্রমিক সুরক্ষা আইনে বলা আছে: শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন (Occupational Safety and Health Administration), এর মান বজায় রাখতে ক্লোজড লুপ স্মেল্টিং, লোকাল এক্সস্ট, HEPA (High Efficiency Particulate Air filter) ফিল্ট্রেশন, অ্যাসিড মিস্ট স্ক্রাবার এবং বায়ো মনিটরিং (BLL টেস্ট) বাধ্যতামূলক যা এই কারখানায় নেই/পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ।

আজ ঢাকা প্রেস ক্লাবে এই বিষয়ে একটি মানব বন্ধন হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে তিনি নিচের দাবিগুলো জানিয়েছেন:

১. মধুখালীতে অবস্থিত ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি অবিলম্বে বন্ধ করে আইন মেনে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।
২.আইনের ব্যাত্যয় হলে কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে।
৪. দূষিত মাটি ও পানির সুরক্ষার জন্য পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
৫. এলাকার ফুড চেইনে (যেমন মাছ, গবাদি পশুর মাংস, ফল, শাক সবজি ইত্যাদি) শিশার মাত্রা পরীক্ষা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিকে জনগণকে ফল জানাতে হবে।
৬. পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন আমি কোনো শিল্প কারখানার বিপক্ষে নই। তবে এতটুকু নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো শিল্প কারখানাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি না হয়। কারণ পরিবেশ বাঁচলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে; সুতরাং এই ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ নাই।

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকা মধুখালীতে ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তারা বিষয়টি ঢাকার অফিসের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই সীসা ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ফেসবুক পোস্টে ড. শাহাবুদ্দিন লেখেন, “এই ব্যাটারি ফ্যাক্টরির দূষণে মধুখালী এলাকা আজ চরম পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়েছে। বিষাক্ত সীসা (Lead), সালফিউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বাতাস, মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে স্থানীয় জনগণ—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা—শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, ত্বকের রোগ, চোখ জ্বালা, কিডনি বিকলতা এবং রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

এলাকাবাসী একাধিকবার ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কোনো তদন্ত বা পরিদর্শন দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, “পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে আমার ধারণা, এই ফ্যাক্টরির নির্গমন ও বর্জ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সীমা অতিক্রম করছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, দিনরাত এই ফ্যাক্টরি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। শিশুদের অসুস্থতা বাড়ছে। অভিযোগ জানালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, বরং প্রতিবাদকারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশার মাত্রা প্রায় সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। সীসা একটি স্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক দূষক, যা মাটি, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে জমা থাকে।”

ফ্যাক্টরির বর্জ্য স্থানীয় পুকুর, খাল-বিলে প্রবেশ করায় মাছ মারা যাচ্ছে, কৃষিজমির উৎপাদন কমছে এবং আশপাশের প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা ও খুলনা অঞ্চল সীসা দূষণের হটস্পট, যেখানে বাতাসে শিশার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার বহু গুণ বেশি।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, “সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প যদি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে না চলে, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক।

আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন

বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের Environmental Conservation Rules-1997 (ECR 1997) অনুযায়ী পানীয় জলে সীসার মান ০.০৫ mg/L এবং Bangladesh National Ambient Air Quality Standard (BNAAQS) অনুযায়ী বাতাসে সীমা ০.৫ µg/m³ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, তাদের কাছে এ ধরনের পরিমাপের কারিগরি সক্ষমতা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, এই আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ব্যাটারি ফ্যাক্টরি আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে। শ্রমিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী Occupational Safety and Health Administration (OSHA) মান বজায় রাখতে HEPA ফিল্টার, অ্যাসিড মিস্ট স্ক্রাবার ও বায়োমনিটরিং (BLL টেস্ট) বাধ্যতামূলক হলেও কারখানাটিতে এসব ব্যবস্থা নেই বা অপর্যাপ্ত।

আজ ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এই বিষয় নিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে ড. শাহাবুদ্দিন অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,

> “আমি কোনো শিল্প কারখানার বিপক্ষে নই, তবে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো শিল্পই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি না হয়। পরিবেশ বাঁচলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে।”

দাবিসমূহ

১. মধুখালীতে অবস্থিত ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি অবিলম্বে বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।
২. আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে।
৪. দূষিত মাটি ও পানি পুনরুদ্ধারে পরিবেশ পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
৫. খাদ্যশৃঙ্খলে শিশার মাত্রা পরীক্ষা করে ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
৬. পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

আবাসিক এলাকায় সীসা-ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি: ড. শাহাবুদ্দিনের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর -১ এ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকা মধুখালীতে ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশংকা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন আমি ফরদিপুরে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি ঢাকা অফিসের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এলাকাবাসী মনে করছে কিছু মানুষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের হীন স্বার্থে এমন জনস্বার্থ ও পরিবেশের উপর হুমকি সম্পন্ন একটি প্লান্টকে জনবহুল আবাসিক এলাকায় বছরের পর চলতে দিচ্ছে।

মধুখালীতে সীসা-ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ নিয়ে ড. শাহাবুদ্দিনের উদ্বেগ
ছবি: মানববন্ধন

এক ফেসবুক পোষ্টে তিনি লেখেন এই ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরির দূষণে পুরো এলাকা আজ চরম পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়েছে। বিষাক্ত সীসা (Lead), সালফিউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বাতাস, মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, ত্বকের রোগ, চোখ জ্বালা, কিডনি বিকলতা এবং রক্তসল্পতায় আক্রান্ত হচ্ছেন!

স্থানীয় জনগণ বেশ কয়েকবার ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো তদন্ত বা পরিদর্শন কার্যক্রম দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন উপরোক্ত ক্ষতিকর প্রভাবের আলোকে পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসাবে আমার ধারণা এই ফ্যাক্টরির নির্গমন ও বর্জ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডের সীমা অতিক্রম করছে। মধুখালীর স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি “দিনরাত এই ফ্যাক্টরি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা বলেন বারবার অভিযোগ দিয়েছি উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অফিসে, কিন্তু তারা কিছুই করছে না। বরং যারা প্রতিবাদ করছে তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন বাংলদেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই (বিভিন্ন এলাকা এবং স্যাম্পল) শিশার মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চাইতে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীসা একটি স্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক দূষক যা মাটি, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে জমে থাকে। ফ্যাক্টরির বর্জ্য আশেপাশের পুকুর ও খাল-বিলের পানিতে প্রবেশ করায় মাছ মারা যাচ্ছে, কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আশপাশের প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকা এবং খুলনা অঞ্চল হচ্ছে সীসা দূষণের হটস্পট। এই এলাকার বাতাসে শিশার পরিমান ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসাবে আমি মনে করি সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং নিদৃষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা না হলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মহা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অমানবিক।

আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন:

বাংলদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের Environmental Conservation Rules-1997 (ECR 1997)এ পানীয় জলের সীসা মান (০.০৫ mg/L) ও Bangladesh National Ambient Air Quality Standard (BNAAQS)অনুযায়ী জলাশয়ে লিডের এর সীমা ০.৫ µg/m³ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফরদিপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এখানকার এলাকার বাতাস ও পানিতে লিডের পরিমান জানতে চাইলে তারা তা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। বলেছে আমাদের এখানে সেই ধরণের কোনো কারিগরি সামর্থ নাই। অভিযুক্ত কারখানা আবাসিক এলাকায় থাকাই নীতিবিরুদ্ধ। এছাড়া শ্রমিক সুরক্ষা আইনে বলা আছে: শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন (Occupational Safety and Health Administration), এর মান বজায় রাখতে ক্লোজড লুপ স্মেল্টিং, লোকাল এক্সস্ট, HEPA (High Efficiency Particulate Air filter) ফিল্ট্রেশন, অ্যাসিড মিস্ট স্ক্রাবার এবং বায়ো মনিটরিং (BLL টেস্ট) বাধ্যতামূলক যা এই কারখানায় নেই/পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ।

আজ ঢাকা প্রেস ক্লাবে এই বিষয়ে একটি মানব বন্ধন হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে তিনি নিচের দাবিগুলো জানিয়েছেন:

১. মধুখালীতে অবস্থিত ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি অবিলম্বে বন্ধ করে আইন মেনে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।
২.আইনের ব্যাত্যয় হলে কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে।
৪. দূষিত মাটি ও পানির সুরক্ষার জন্য পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
৫. এলাকার ফুড চেইনে (যেমন মাছ, গবাদি পশুর মাংস, ফল, শাক সবজি ইত্যাদি) শিশার মাত্রা পরীক্ষা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিকে জনগণকে ফল জানাতে হবে।
৬. পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন আমি কোনো শিল্প কারখানার বিপক্ষে নই। তবে এতটুকু নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো শিল্প কারখানাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি না হয়। কারণ পরিবেশ বাঁচলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে; সুতরাং এই ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ নাই।

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকা মধুখালীতে ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি থেকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তারা বিষয়টি ঢাকার অফিসের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই সীসা ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ফেসবুক পোস্টে ড. শাহাবুদ্দিন লেখেন, “এই ব্যাটারি ফ্যাক্টরির দূষণে মধুখালী এলাকা আজ চরম পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়েছে। বিষাক্ত সীসা (Lead), সালফিউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বাতাস, মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে স্থানীয় জনগণ—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা—শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, ত্বকের রোগ, চোখ জ্বালা, কিডনি বিকলতা এবং রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

এলাকাবাসী একাধিকবার ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কোনো তদন্ত বা পরিদর্শন দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, “পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে আমার ধারণা, এই ফ্যাক্টরির নির্গমন ও বর্জ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সীমা অতিক্রম করছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, দিনরাত এই ফ্যাক্টরি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। শিশুদের অসুস্থতা বাড়ছে। অভিযোগ জানালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, বরং প্রতিবাদকারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশার মাত্রা প্রায় সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। সীসা একটি স্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক দূষক, যা মাটি, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে জমা থাকে।”

ফ্যাক্টরির বর্জ্য স্থানীয় পুকুর, খাল-বিলে প্রবেশ করায় মাছ মারা যাচ্ছে, কৃষিজমির উৎপাদন কমছে এবং আশপাশের প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা ও খুলনা অঞ্চল সীসা দূষণের হটস্পট, যেখানে বাতাসে শিশার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার বহু গুণ বেশি।

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, “সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প যদি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে না চলে, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক।

আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন

বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের Environmental Conservation Rules-1997 (ECR 1997) অনুযায়ী পানীয় জলে সীসার মান ০.০৫ mg/L এবং Bangladesh National Ambient Air Quality Standard (BNAAQS) অনুযায়ী বাতাসে সীমা ০.৫ µg/m³ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, তাদের কাছে এ ধরনের পরিমাপের কারিগরি সক্ষমতা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, এই আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ব্যাটারি ফ্যাক্টরি আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে। শ্রমিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী Occupational Safety and Health Administration (OSHA) মান বজায় রাখতে HEPA ফিল্টার, অ্যাসিড মিস্ট স্ক্রাবার ও বায়োমনিটরিং (BLL টেস্ট) বাধ্যতামূলক হলেও কারখানাটিতে এসব ব্যবস্থা নেই বা অপর্যাপ্ত।

আজ ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এই বিষয় নিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে ড. শাহাবুদ্দিন অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,

> “আমি কোনো শিল্প কারখানার বিপক্ষে নই, তবে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো শিল্পই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি না হয়। পরিবেশ বাঁচলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে।”

দাবিসমূহ

১. মধুখালীতে অবস্থিত ভলভো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি অবিলম্বে বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।
২. আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে।
৪. দূষিত মাটি ও পানি পুনরুদ্ধারে পরিবেশ পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
৫. খাদ্যশৃঙ্খলে শিশার মাত্রা পরীক্ষা করে ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
৬. পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :