বাংলাদেশ ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

আশুলিয়ায় ভয়াবহ আগুনে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকার

মোঃ মামুন হোসেন আশুলিয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 141

ছবি: আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর ধ্বংসস্তূপ

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। লাইব্রেরি, মুদি, কাপড় ও জুতার দোকানসহ সবকটি দোকানের মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, আগুনে প্রাথমিকভাবে দুই কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের উৎস এখনও নিশ্চিত নয়, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা জানান, তারা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই আগুনের খবর পান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সামি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মালামাল ছিল। সবকিছুই পুড়ে গেছে।”
অন্যদিকে মুদি দোকান মালিক সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে পণ্য তুলেছিলেন, সব পুড়ে গেছে।

এছাড়া আহাদ নূর আলম, মাহবুব, জুম্মান মুন্সী, জুবায়ের, আশরাফ মিয়া, আবুল ও শাহিনের মুদি দোকানসহ আরও অন্তত ১৭টি দোকান আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকারও বেশি।

কেরু বেপারী মার্কেটের ইমরুল, লিজু মোল্লা, মঞ্জু, আব্দুস সবুর ও আরিফের কাপড় ও জুতার দোকানও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকান মালিকরা বলেন, “আমরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকান চালাতাম, এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
তারা সরকারের কাছে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

আশুলিয়ায় ভয়াবহ আগুনে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকার

আপডেট সময় : ১০:৪১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। লাইব্রেরি, মুদি, কাপড় ও জুতার দোকানসহ সবকটি দোকানের মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, আগুনে প্রাথমিকভাবে দুই কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের উৎস এখনও নিশ্চিত নয়, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা জানান, তারা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই আগুনের খবর পান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সামি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মালামাল ছিল। সবকিছুই পুড়ে গেছে।”
অন্যদিকে মুদি দোকান মালিক সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে পণ্য তুলেছিলেন, সব পুড়ে গেছে।

এছাড়া আহাদ নূর আলম, মাহবুব, জুম্মান মুন্সী, জুবায়ের, আশরাফ মিয়া, আবুল ও শাহিনের মুদি দোকানসহ আরও অন্তত ১৭টি দোকান আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকারও বেশি।

কেরু বেপারী মার্কেটের ইমরুল, লিজু মোল্লা, মঞ্জু, আব্দুস সবুর ও আরিফের কাপড় ও জুতার দোকানও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকান মালিকরা বলেন, “আমরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকান চালাতাম, এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
তারা সরকারের কাছে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন :