ডা. শাহাবুদ্দিন আহমেদ : হ্যাঁ অথবা না’র প্রশ্নই অবান্তর!
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 119
ফরিদপুর ১ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী, ডা. শাহাবুদ্দিন আহমেদ ফেসবুক পোস্টে বলেন, “হ্যাঁ অথবা না’র প্রশ্নই অবান্তর!” প্রথমেই বলে নেই এই পোস্ট দেওয়ার আগে আমি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছি সংবিধানের সংশোধনীগুলো খুঁটে খুঁটে পড়েছি। মূল জুলাই সনদ নোট অফ ডিসেন্ট সহকারে সেটা পড়েছি। সর্বশেষ সংযুক্তি হিসেবে দেওয়া “জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫” যেটা নিয়ে মূল বিতর্কে শুরু সেটাও পড়েছি।
সুতরাং আমার সাথে তর্ক করার আগে অন্তত এই ডকুমেন্টগুলো পড়ে আসবেন।
এবার আসি হ্যাঁ বা না বিতর্ক নিয়ে।
বিএনপি’র সমর্থকেরা ৩ টি বিষয়ের উপরে মূলত না প্রস্তাবনা এনেছে যদিও এটা অফিসিয়াল কোন বক্তব্য নয়। প্রথমটি হচ্ছে “সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র”।
সত্যি কথা বলতে বিএনপি’র কোটি কোটি সমর্থকদের এই প্রচারণাকে আমি দোষ দেবো না। তবে যিনি বা যারা এটার উদ্ভব ঘটিয়েছেন তিনি বা তারা নেহায়েত একটি চাতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। পথভ্রষ্ট জামাতের মত ধর্মীয় কার্ড খেলার কোন প্রয়োজন নেই বিএনপি’র। আপনি যদি উপরোল্লেখিত দলিলগুলো পড়ে করে থাকেন তাহলে দেখবেন এই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে আউট অফ কনটেক্সট থেকে। এটা জুলাই সনদের বিতর্কের কোন বিষয় নয়।
মূল জুলাই সনদ যেটাতে বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে সেখানে সংবিধানের মূলনীতির প্রশ্নে ৬ বাম দল নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে যার ভিতরে বিএনপি নাই।
বলে রাখা দরকার আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস সংবিধানে সংযোজন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পঞ্চম সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে সেই পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে ২০১১ সালে এবং ৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ অন্তর্ভুক্ত করে।
অদ্যবধি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে প্রস্তাবনার দ্বিতীয় ভাগে উল্লেখ আছে জাতীয়তাবাদ সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। জুলাই সনদের প্রস্তাবনায় সেটাকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেটাতে বিএনপির কোনো আপত্তি করেনি।
এখানে যদি বিএনপি বলতো আমরা এটা নোট অফ ডিসেন্ট দিচ্ছি এবং পঞ্চম সংশোধনী মোতাবেক আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস পূনস্থাপিত করতে হবে বলতো তাহলে এই ন্যারেটিভ ঠিক ছিল। তবে আমি আশাবাদী বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসলে পঞ্চম সংশোধনীর এই মূলনীতি ফিরিয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয়তঃ বিএনপির সমর্থকেরা স্বাক্ষরের পর জুলাই সনদ এর পরিবর্তনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। এই দাবিটিও পুরাপুরি সত্য নয়। বরং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ একটি সংযুক্তি বা অ্যাপেন্ডিক্স হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যারা এই ন্যারেটিভ দাড় করানোর চেষ্টা করছে বিএনপি’র পক্ষে তারা যদি মুল টেক্স এবং সংযুক্তির পার্থক্য না বুঝে তাহলে এমন বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে বিএনপি’র পচন রোধ করা যাবে না।
তবে বলা দরকার বিতর্ক এড়াতে জুলাই সনদের এই সংযুক্তটি অবশ্যই মূল সনদের সাথে মার্জ করে দেওয়া উচিত ছিল। মূলত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল ডকুমেন্ট হিসেবে আমরা যেটাতে স্বাক্ষর করেছি সেটাইতে আমাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তৃতীয়ত গণভোটের প্রশ্নে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৬ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে এটি জাতীয় নির্বাচনের আগে উপযুক্ত সময়ে অথবা নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। এই প্রস্তাবনার দ্বিতীয় ভাগের সাথে বিএনপি পুরোপুরি একমত। আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো ধরনের গণভোটের বিরোধিতা করি যৌক্তিক কারণেই। আমি আপনাকে হাজারটা না হলেও অন্তত শতটা কারণ দেখাতে পারবো।
ধন্যবাদ















