মাদ্রাসা ও স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / 6
দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর আজ সোমবার থেকেই পুনরায় চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুল ও মাদ্রাসা। আর প্রথম দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর করা হচ্ছে নতুন এক প্রার্থনা নির্দেশিকা। শিক্ষা দপ্তরের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিনের প্রাতঃসমাবেশ বা অ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে রাজ্যটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দে মাতরম গানের কোনো অংশ বাদ দেওয়া যাবে না, বরং সম্পূর্ণ গানটিই গাইতে হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এর সাথে জাতীয় সংগীত যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দৈনিক প্রার্থনা সভার সময়সীমা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক স্কুলেই সকালের ক্লাসের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করানোর অভিনব উদ্যোগ
হঠাৎ এই নিয়ম চালু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীরই পুরো গানটি এখনো মুখস্থ হয়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে অনেক স্কুলে প্রথম কয়েক দিন মোবাইল বা লাউডস্পিকারে মূল গানটি বাজিয়ে একসঙ্গে গলা মেলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গানটি পুরোপুরি মুখস্থ হয়ে গেলে তখন আর অডিও বাজানো হবে না।
মাদ্রাসায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষকদের অবস্থান
সরকারি এই নির্দেশিকা থেকে বাদ যায়নি রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোও। সোমবার মাদ্রাসা খোলার পর থেকেই সেখানে এই নিয়ম কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে পুরো গানটি গাওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রথম দুটি পঙ্ক্তি গাওয়ায় কোনো আপত্তি না থাকলেও পুরো গানটি গাওয়ার নিয়মটি নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে। তবে বিতর্ক থাকলেও আপাতত সরকারি আদেশ পুরোপুরি মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা প্রধানেরা।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

















