বাংলাদেশ ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

নিরাপত্তার চাদরে মুড়েছে ক্যাম্পাস, ভোট দিতে প্রস্তুত ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন, উৎসবের আমেজ চবি ক্যাম্পাসে

ইনসাফ বিশ্ব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 136

ছবি: চাকসু ভবন

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর। এই ভোটযুদ্ধকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের চিত্র

মোট ২৭ হাজার ৫১৬ জন ভোটার এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনে মোট ১৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ৬১টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৫০০ জন ভোটার ভোট দিতে

পারবেন। চাকসুর ২৬টি পদে ৪১৫ জন প্রার্থী এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওএমআর ব্যালট এবং প্যানেল পরিচিতি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের ভোটগ্রহণ হচ্ছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডিং) ব্যালট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ব্যালটে ২৪ অঙ্কের নিরাপত্তা কোড এবং একটি গোপন কোড থাকবে, যা মেশিনে শনাক্ত হবে।

চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান প্যানেলগুলো হলো: ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’, বাম সংগঠনগুলোর ‘দ্রোহ পর্ষদ’ ও ‘বৈচিত্র্য ঐক্য’ এবং ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিস, রিজার্ভ ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স, গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট এক হাজার ৫০ জন পুলিশ ও ৪০ জন র‍্যাব সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে কাজ করছেন। প্রয়োজনে বিজিবি ও সেনাবাহিনী সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটারদের জন্য নির্দেশনা

ভোটাররা তিনটি গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে

পারবেন: কাটা পাহাড়, ৩ নম্বর গোডাউন এবং শহীদ মিনারের দক্ষিণের আর্চওয়ে। ভোট দিতে আসার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড (প্রথম বর্ষের ক্ষেত্রে ব্যাংক পে স্লিপ) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। ভোটাররা ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে আইডি কার্ড যাচাই করে পাঁচটি ব্যালট পেপার পাবেন। গোপন কক্ষে নির্ধারিত কলম ব্যবহার করে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে বৃত্ত পূরণ করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।

যাতায়াত সুবিধা

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভোটের দিন শাটল ট্রেন ১১ বার বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর মধ্যে চলাচল করবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন রুট থেকে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য ৩০টি বাসেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

নিরাপত্তার চাদরে মুড়েছে ক্যাম্পাস, ভোট দিতে প্রস্তুত ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন, উৎসবের আমেজ চবি ক্যাম্পাসে

আপডেট সময় : ০৮:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর। এই ভোটযুদ্ধকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের চিত্র

মোট ২৭ হাজার ৫১৬ জন ভোটার এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনে মোট ১৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ৬১টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৫০০ জন ভোটার ভোট দিতে

পারবেন। চাকসুর ২৬টি পদে ৪১৫ জন প্রার্থী এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওএমআর ব্যালট এবং প্যানেল পরিচিতি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের ভোটগ্রহণ হচ্ছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডিং) ব্যালট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ব্যালটে ২৪ অঙ্কের নিরাপত্তা কোড এবং একটি গোপন কোড থাকবে, যা মেশিনে শনাক্ত হবে।

চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান প্যানেলগুলো হলো: ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’, বাম সংগঠনগুলোর ‘দ্রোহ পর্ষদ’ ও ‘বৈচিত্র্য ঐক্য’ এবং ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিস, রিজার্ভ ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স, গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট এক হাজার ৫০ জন পুলিশ ও ৪০ জন র‍্যাব সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে কাজ করছেন। প্রয়োজনে বিজিবি ও সেনাবাহিনী সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটারদের জন্য নির্দেশনা

ভোটাররা তিনটি গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে

পারবেন: কাটা পাহাড়, ৩ নম্বর গোডাউন এবং শহীদ মিনারের দক্ষিণের আর্চওয়ে। ভোট দিতে আসার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড (প্রথম বর্ষের ক্ষেত্রে ব্যাংক পে স্লিপ) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। ভোটাররা ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে আইডি কার্ড যাচাই করে পাঁচটি ব্যালট পেপার পাবেন। গোপন কক্ষে নির্ধারিত কলম ব্যবহার করে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে বৃত্ত পূরণ করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।

যাতায়াত সুবিধা

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভোটের দিন শাটল ট্রেন ১১ বার বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর মধ্যে চলাচল করবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন রুট থেকে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য ৩০টি বাসেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :