বাংলাদেশ ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

জনবহুল পাটগ্রাম বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ তেলের ডিপো: ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 176

ছবি: ঝুঁকিপূর্ণ তেলের ডিপো

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌর শহরের থানাপাড়া এলাকায় মেসার্স রাহিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি তেলের ডিপো নিয়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনবহুল পাটগ্রাম বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সের শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রংপুরের একটি গ্যাস পাম্পে দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা এই ডিপো নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মারাত্মক ঝুঁকি ও আইন লঙ্ঘন

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের ডিপো মেসার্স রাহিম এন্টারপ্রাইজের আশেপাশে রয়েছে ৫১ বিজিবির হেডকোয়ার্টার, পাটগ্রাম থানা, মসজিদ, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। লাইসেন্সের

শর্তানুসারে, মজুতকৃত তেলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ডিপোর চারপাশে ৭ থেকে ১১ মিটার পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা (বিপত্তি) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ডিপোর চারপাশে সেই নিয়ম মানা হয়নি; বরং অন্যান্য ঘরের সাথে লাগোয়া অবস্থায় এটি পরিচালিত হচ্ছে, যা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইতিপূর্বে এই প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডে একজন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর শোনা যায়।

ডিপোর মালিক রাহিমুল হক মজুমদার ভাড়ার দোকানে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাটির নিচে অবৈধভাবে তেলের ট্যাংকি পুঁতে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি কৌশলে ট্যাংকিটি অপসারণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং ভুল স্বীকার করে

ক্ষমা চান।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

এ বিষয়ে রংপুরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক অশোক কুমার দাস বলেন, রেকর্ড অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ লাইসেন্সধারী হলেও সরজমিন পরিদর্শনে লাইসেন্সের শর্তাবলি পূর্ণরূপে পালন করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ডিপো মালিককে ডাকযোগে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তিনি জানান, লাইসেন্সের যেকোনো শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা এমনকি মামলা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাস বলেন, শর্ত ও আইন অমান্য করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা

করলে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীবৃন্দ অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ তেলের ডিপো বন্ধ করে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি “একটি ভিড়া বোমার মতো, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” দাবি না মানা হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

জনবহুল পাটগ্রাম বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ তেলের ডিপো: ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌর শহরের থানাপাড়া এলাকায় মেসার্স রাহিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি তেলের ডিপো নিয়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনবহুল পাটগ্রাম বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সের শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রংপুরের একটি গ্যাস পাম্পে দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা এই ডিপো নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মারাত্মক ঝুঁকি ও আইন লঙ্ঘন

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের ডিপো মেসার্স রাহিম এন্টারপ্রাইজের আশেপাশে রয়েছে ৫১ বিজিবির হেডকোয়ার্টার, পাটগ্রাম থানা, মসজিদ, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। লাইসেন্সের

শর্তানুসারে, মজুতকৃত তেলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ডিপোর চারপাশে ৭ থেকে ১১ মিটার পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা (বিপত্তি) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ডিপোর চারপাশে সেই নিয়ম মানা হয়নি; বরং অন্যান্য ঘরের সাথে লাগোয়া অবস্থায় এটি পরিচালিত হচ্ছে, যা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইতিপূর্বে এই প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডে একজন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর শোনা যায়।

ডিপোর মালিক রাহিমুল হক মজুমদার ভাড়ার দোকানে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাটির নিচে অবৈধভাবে তেলের ট্যাংকি পুঁতে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি কৌশলে ট্যাংকিটি অপসারণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং ভুল স্বীকার করে

ক্ষমা চান।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

এ বিষয়ে রংপুরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক অশোক কুমার দাস বলেন, রেকর্ড অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ লাইসেন্সধারী হলেও সরজমিন পরিদর্শনে লাইসেন্সের শর্তাবলি পূর্ণরূপে পালন করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ডিপো মালিককে ডাকযোগে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তিনি জানান, লাইসেন্সের যেকোনো শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা এমনকি মামলা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাস বলেন, শর্ত ও আইন অমান্য করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা

করলে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীবৃন্দ অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ তেলের ডিপো বন্ধ করে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি “একটি ভিড়া বোমার মতো, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” দাবি না মানা হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :