বাংলাদেশ ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে চায়?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪
  • / 256
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিলিস্তিনের ভাগ্য নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সাত দশকেরও বেশি সময় আগে যেখানে একটি নতুন রাষ্ট্র জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। নতুন এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আন্দোলনকে চাপা দিয়ে, এই ভূখণ্ডকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে চায়। এর ফলে, ফিলিস্তিন ইসরায়েলের অধীনে থেকে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক স্বার্থ সফল হবে।

দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। তাদের এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল এই সংগঠনের অন্যতম নেতা ইয়াহহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে, যা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলছে।

ফিলিস্তিনের প্রতি সৌদি আরবের অবস্থান

ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরবের তেমন কোনো উদ্বেগ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এবং সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভার বহন করবে। এ জন্য সৌদি আরব ফিলিস্তিনকে বলি দিতে প্রস্তুত। রিয়াদের কর্মকর্তারা অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শাসন করতে চায় এবং ফিলিস্তিনকে তাদের হাতে তুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তা করতে প্রস্তুত।

গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলের পরিকল্পনা
ইসরায়েল ইতোমধ্যে পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু গাজার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বা তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। ইয়াহহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যু ইসরায়েলের জন্য এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংগ্রামের ভবিষ্যৎ

সিনওয়ারের মৃত্যু সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগ্রাম দুর্বল হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। যারা স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে, তাদের থামানো সম্ভব নয়। যদিও ইসরায়েল গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চায়, তবে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগান বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে প্রতিধ্বনিত হবে।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সৌদি আরবের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা হয়ে থাকবে পরাধীন। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে, তা তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে, এবং এই লড়াই থামানো সহজ হবে না। ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন এখন আরও প্রয়োজন, এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলাই হবে সবচেয়ে জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে চায়?

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

ফিলিস্তিনের ভাগ্য নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সাত দশকেরও বেশি সময় আগে যেখানে একটি নতুন রাষ্ট্র জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। নতুন এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আন্দোলনকে চাপা দিয়ে, এই ভূখণ্ডকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে চায়। এর ফলে, ফিলিস্তিন ইসরায়েলের অধীনে থেকে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক স্বার্থ সফল হবে।

দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। তাদের এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল এই সংগঠনের অন্যতম নেতা ইয়াহহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে, যা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলছে।

ফিলিস্তিনের প্রতি সৌদি আরবের অবস্থান

ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরবের তেমন কোনো উদ্বেগ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এবং সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভার বহন করবে। এ জন্য সৌদি আরব ফিলিস্তিনকে বলি দিতে প্রস্তুত। রিয়াদের কর্মকর্তারা অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শাসন করতে চায় এবং ফিলিস্তিনকে তাদের হাতে তুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তা করতে প্রস্তুত।

গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলের পরিকল্পনা
ইসরায়েল ইতোমধ্যে পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু গাজার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বা তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। ইয়াহহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যু ইসরায়েলের জন্য এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংগ্রামের ভবিষ্যৎ

সিনওয়ারের মৃত্যু সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগ্রাম দুর্বল হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। যারা স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে, তাদের থামানো সম্ভব নয়। যদিও ইসরায়েল গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চায়, তবে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগান বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে প্রতিধ্বনিত হবে।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সৌদি আরবের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা হয়ে থাকবে পরাধীন। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে, তা তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে, এবং এই লড়াই থামানো সহজ হবে না। ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন এখন আরও প্রয়োজন, এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলাই হবে সবচেয়ে জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :