বাংলাদেশ ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

রাশিয়ার সমর্থনে চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া;

পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা শঙ্কা কি বাড়ছে?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪
  • / 284
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, এই মাসে প্রশিক্ষণের জন্য হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ান সেনা রাশিয়ায় পৌঁছেছে। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর শক্তি বৃদ্ধিতে তাদের মোতায়েনের পরিকল্পনা চলছে। এই ঘটনায় পশ্চিমাদের মাঝে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক অংশীদারিত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া ইতিমধ্যে ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ব্যবহার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান রাশিয়াকে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করেছে। এদিকে, চীনকেও রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো দুটি চীনা কোম্পানিকে রাশিয়ায় পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে জরিমানা করেছে। যদিও চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই সামরিক সহযোগিতা মূল্যায়ন করে মার্কিন কংগ্রেস সমর্থিত একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী রাশিয়া, চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়াকে “উদীয়মান ক্ষতিকারক অক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করলে তা শুধু ইউরোপ নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে যে তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে বিবেচনা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবশ্য দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধে এই চার দেশ একে অপরের প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহী।

চীন জোর দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক “জোট-নিরপেক্ষ, দ্বন্দ্বহীন এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু নয়”।

এদিকে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেয়।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে চীন উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়াকে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সম্পর্কগুলো আদর্শগত নয় বরং স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

রাশিয়ার সমর্থনে চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া;

পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা শঙ্কা কি বাড়ছে?

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, এই মাসে প্রশিক্ষণের জন্য হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ান সেনা রাশিয়ায় পৌঁছেছে। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর শক্তি বৃদ্ধিতে তাদের মোতায়েনের পরিকল্পনা চলছে। এই ঘটনায় পশ্চিমাদের মাঝে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক অংশীদারিত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া ইতিমধ্যে ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ব্যবহার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান রাশিয়াকে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করেছে। এদিকে, চীনকেও রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো দুটি চীনা কোম্পানিকে রাশিয়ায় পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে জরিমানা করেছে। যদিও চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই সামরিক সহযোগিতা মূল্যায়ন করে মার্কিন কংগ্রেস সমর্থিত একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী রাশিয়া, চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়াকে “উদীয়মান ক্ষতিকারক অক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করলে তা শুধু ইউরোপ নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে যে তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে বিবেচনা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবশ্য দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধে এই চার দেশ একে অপরের প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহী।

চীন জোর দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক “জোট-নিরপেক্ষ, দ্বন্দ্বহীন এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু নয়”।

এদিকে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেয়।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে চীন উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়াকে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সম্পর্কগুলো আদর্শগত নয় বরং স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :