রাখাইনে সাহস দেখানোর আহ্বান ফিলিপ্পো গ্রান্ডির; বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা
মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান: ইউএনএইচসিআর প্রধানের কড়া বার্তা
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
- / 159
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কেবল এর উৎসভূমি মিয়ানমারের ভেতরেই সম্ভব। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যথায় রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ দুর্ভোগের অবসান হবে না।
মূল সমস্যা মিয়ানমারে, সেখানেই সমাধান
গ্রান্ডি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস সহিংসতায় সাত লাখ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়, এবং বহু মানুষ এখনো রাখাইন রাজ্যেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা দখল করলেও রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদলায়নি। তাদের প্রতিদিনের জীবন কাটে গ্রেপ্তার, আটক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার, চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা এবং জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়োগের আশঙ্কায়। বর্ণবাদ ও আতঙ্কের শিকার হওয়া যেন তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
বাংলাদেশের মানবিকতা বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত
এই মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনএইচসিআর প্রধান। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের নতুন সংঘাতে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হয়েছে। তিনি জোর দেন যে, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গ্রান্ডি বলেন, যখন উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে, তখনও সহানুভূতি দেখানো সম্ভব—এটা বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে।
তহবিল ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও গ্রান্ডি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা তহবিলের তীব্র ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত তহবিল না এলে জরুরি সহায়তা কাটছাঁট করতে হতে পারে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং আরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় যেতে বাধ্য হবে। ইউএনএইচসিআর প্রধান বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে তহবিল বৃদ্ধি, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তবে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা এই সংকটের টেকসই সমাধান দিতে পারে না। রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এই সুপারিশগুলোই দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত। কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে মিয়ানমারকে অবশ্যই সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
























