ইসির সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান এনসিপির—শাপলা প্রতীক ছাড়া নিবন্ধন নয়
শাপলা না দিলে ধানের শীষও বাদ দিতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 85
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—ইসির সামনে এখন দুটি পথ খোলা: শাপলা প্রতীক দিতে হবে, অন্যথায় প্রতীকের তালিকা থেকে ‘ধানের শীষ’ ও ‘সোনালি আঁশ’ বাদ দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “দুই ঘণ্টার আলোচনায় ইসি শাপলা প্রতীক না দেওয়ার কোনো আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে শাপলা প্রতীক ছাড়া এনসিপির নিবন্ধন গ্রহণযোগ্য হবে না।”
এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আজ একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তিনি নাকি মানসিকভাবে প্রস্তুত, আগের কমিশনারদের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। এ ধরনের অদ্ভুত মন্তব্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই না, তবে এমন চিন্তাধারার মানুষদের স্বাধীন দায়িত্ব পালন করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “ইসি আমাদের আলোচনায় ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন সংস্থার উদাহরণ দিয়েছিল। আমরা বলেছি, যদি কোনো চাপ থাকে, আমাদের জানান। আমরা ইসিকে কোনোভাবে বিব্রত করব না, বরং রাজপথে গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা করব। কোনো অদৃশ্য শক্তির কাছে মাথা নত করবে না এনসিপি।”
নাসীরুদ্দীন স্পষ্ট করে বলেন, “শাপলা প্রতীক আমাদের অধিকার। আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় আছি এবং থাকব। শাপলা ছাড়া এনসিপির নিবন্ধন হবে না, আর এনসিপিও শাপলা ছাড়া কোনো নিবন্ধন মানবে না।”
দলের মুখ্য সমন্বয়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমরা আরও দাবি জানিয়েছি যে নির্বাচনের দিন যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।”
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “জাতীয় লীগের মতো বিলুপ্ত ও অকার্যকর দলের নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ইসি সূত্রে জানা গেছে, কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে আন্দোলনের ঘোষণা আসায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


























