এনসিপির শর্ত: হয় 'শাপলা' দাও, নয়তো 'ধান' প্রতীক বাদ হোক
‘ধানের শীষ’ নিয়ে টানাটানি কেন? প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের
- আপডেট সময় : ০৭:২১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / 142
বিএনপির নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অযথা কেন টানাটানি হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, অন্য দলগুলোর প্রতীকে বিএনপি কোনো বাধা দেয়নি। তাদের প্রতীক নির্বাচন কমিশন দেবে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।
১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ জেহাদ স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনসিপির প্রতীক দাবি
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনকে শর্ত দিয়েছে যে, হয় তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে শাপলা দিতে হবে, নয়তো ধান প্রতীক (বিএনপির ধানের শীষ) এবং সোনালী আঁশ (জেএসডির প্রতীক) বাদ দিতে হবে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শাপলা প্রতীক ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না।
এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আজ বলেন, কিছু ব্যক্তি বা দল হুমকি দিচ্ছে যে অমুক প্রতীক না দিলে তারা নির্বাচনে যাবে না বা ওমুকের প্রতীক থাকতে পারবে না। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, “আমরা এ কথা বলি নাই যে তোমাদেরকে মার্কা দেওয়া যাবে না। তাহলে অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন?”
ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষকে অপ্রতিরোধ্য উল্লেখ করে বলেন, এটিকে থামিয়ে রাখা যায় না। তিনি মনে করেন, ধানের শীষ জিতে গেলে “বাংলাদেশের শত্রুরা তাদের সব ষড়যন্ত্র থেকে পরাজিত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।”
ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘দানব’ (মনস্টার) উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, “মনস্টার শেখ হাসিনা এমনি এমনি দিল্লি পলাইয়া যায়নি, যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা সে ভিত্তি তৈরি করেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করে সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে আমরা সেই ভিত্তি অর্জন করেছি।”
গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্রশাসন
মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েক দিনের লাফালাফি করলে গণতন্ত্র হয় না। গণতন্ত্র গড়তে অনেক পরিশ্রম, ত্যাগ এবং জনগণের কাছে যাওয়া দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, আমলাতন্ত্রকে একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না।” নির্বাচনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন থাকার দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান শহীদ জেহাদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেদিন স্বৈরাচার পতনের শপথ নিয়েছিলেন তারা এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিলেন।


























