বাংলাদেশ ০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

মানিকগঞ্জে বিশ্ব খাদ্য দিবসে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসব

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 151

ছবি: মানিকগঞ্জে বিশ্ব খাদ্য দিবসে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসব

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি গ্রামে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য খাদ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। “হাতে রেখে হাতে, উত্তম খাদ্য ও উন্নত আগামীর পথে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবের আয়োজন করে বরুন্ডি কৃষক সংগঠন। এতে সহযোগিতা করে বেসরকারি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK) ও PANAP।

মানিকগঞ্জে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসবে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নারী ও কৃষকরা
ছবি: অংশগ্রহণকারী স্থানীয় নারী ও কৃষকরা

১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উৎসবে শতাধিক কৃষক, নারী, শিশু, যুব, শিক্ষক ও স্থানীয় উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উৎসবে গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পায়েস, জৈব উপায়ে উৎপাদিত সবজি, নিরাপদ ফলমূল, বালাই নিয়ন্ত্রণে জৈব সার ও কৃষি যন্ত্রপাতির স্টল প্রদর্শন করা হয়।

বরুন্ডির কৃষক সবিতা বিশ্বাস জানান, “আমরা অচাষকৃত শাক যেমন হেলেঞ্চা, কচু, থানকুনি, ঘিমা, বউটুনি সংগ্রহ করে রান্না করি। এসব শাকে রাসায়নিক নেই, পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।”
আরেক কৃষক শোভা রাণি বলেন, “আমরা নিজস্ব ধান থেকে পিঠা, পায়েস, মুড়ি, নাড়ু তৈরি করি। নিজের হাতে তৈরি খাবার খেলে অসুখ কম হয়, শরীর ভালো থাকে।”

আয়োজকরা জানান, খাদ্য উৎসবের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ঐতিহ্য, জ্ঞান ও দক্ষতা ফুটে উঠেছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এখন তাদের জৈব ফসল ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন।

উৎসবে সভাপতিত্ব করেন বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক গবেষক সবিতা বিশ্বাস। আলোচনায় অংশ নেন কৃষক মাহিনুর আক্তার, বিনা মণ্ডল, কল্পনা সরকার, গুরুদাস সরকার, বারসিক প্রোগ্রাম অফিসার গাজী শাহাদত হোসেন বাদলসহ আরও অনেকে।

বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায় বলেন, “এই খাদ্য উৎসবের মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও নারীদের খাদ্য চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে। স্থানীয় কৃষকদের জ্ঞান বিনিময় নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

খাদ্য উৎসবটি কেবল ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রতি গ্রামীণ মানুষের দায়বদ্ধতা প্রকাশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

মানিকগঞ্জে বিশ্ব খাদ্য দিবসে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসব

আপডেট সময় : ০৭:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি গ্রামে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য খাদ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। “হাতে রেখে হাতে, উত্তম খাদ্য ও উন্নত আগামীর পথে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবের আয়োজন করে বরুন্ডি কৃষক সংগঠন। এতে সহযোগিতা করে বেসরকারি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK) ও PANAP।

মানিকগঞ্জে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসবে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নারী ও কৃষকরা
ছবি: অংশগ্রহণকারী স্থানীয় নারী ও কৃষকরা

১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উৎসবে শতাধিক কৃষক, নারী, শিশু, যুব, শিক্ষক ও স্থানীয় উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উৎসবে গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পায়েস, জৈব উপায়ে উৎপাদিত সবজি, নিরাপদ ফলমূল, বালাই নিয়ন্ত্রণে জৈব সার ও কৃষি যন্ত্রপাতির স্টল প্রদর্শন করা হয়।

বরুন্ডির কৃষক সবিতা বিশ্বাস জানান, “আমরা অচাষকৃত শাক যেমন হেলেঞ্চা, কচু, থানকুনি, ঘিমা, বউটুনি সংগ্রহ করে রান্না করি। এসব শাকে রাসায়নিক নেই, পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।”
আরেক কৃষক শোভা রাণি বলেন, “আমরা নিজস্ব ধান থেকে পিঠা, পায়েস, মুড়ি, নাড়ু তৈরি করি। নিজের হাতে তৈরি খাবার খেলে অসুখ কম হয়, শরীর ভালো থাকে।”

আয়োজকরা জানান, খাদ্য উৎসবের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ঐতিহ্য, জ্ঞান ও দক্ষতা ফুটে উঠেছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এখন তাদের জৈব ফসল ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন।

উৎসবে সভাপতিত্ব করেন বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক গবেষক সবিতা বিশ্বাস। আলোচনায় অংশ নেন কৃষক মাহিনুর আক্তার, বিনা মণ্ডল, কল্পনা সরকার, গুরুদাস সরকার, বারসিক প্রোগ্রাম অফিসার গাজী শাহাদত হোসেন বাদলসহ আরও অনেকে।

বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায় বলেন, “এই খাদ্য উৎসবের মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও নারীদের খাদ্য চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে। স্থানীয় কৃষকদের জ্ঞান বিনিময় নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

খাদ্য উৎসবটি কেবল ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রতি গ্রামীণ মানুষের দায়বদ্ধতা প্রকাশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন :