সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 91
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার, এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “এই নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং। দেশি-বিদেশি কিছু শক্তি এটি বানচালের চেষ্টা করবে। যত ঝড়ই আসুক, আমাদের তা মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি আরও নির্দেশ দেন, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার প্রতিরোধে জোর
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ঠেকাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন বানচালের জন্য এআই-নির্ভর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এজন্য এক মুহূর্ত দেরি না করে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।”
এছাড়া জনগণকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে ইলেকশন কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে টিভিসি ও ডকুমেন্টারি তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার
বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনে সেনা ও নৌবাহিনীর মোট ৯২,৫০০ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য ৯০ হাজার এবং নৌবাহিনীর ২,৫০০ জন।
নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে এবং ৭২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সেনা, র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড একযোগে কাজ করবে।
কর্মকর্তা নিয়োগে কঠোর নীতি
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নিজ এলাকা বা আত্মীয়ের নির্বাচনী এলাকায় কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা যাবে না।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশের ৬৪ জেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ডিসি, এডিসি, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের এবারের নির্বাচনে যুক্ত না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, র্যাব মহাপরিচালক একে এম শহিদুর রহমান, কোস্টগার্ডের ডিজি রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হকসহ এনএসআই ও ডিজিএফআই প্রতিনিধিরা।
















