মানবাধিকার কমিশনই গুমের দায়িত্বে
মানবাধিকার কমিশনই দেখবে গুমের অভিযোগ: আসিফ নজরুল
- আপডেট সময় : ১০:১৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
- / 73
মানবাধিকার কমিশনই গুমের দায়িত্বে
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫–এর অনুমোদনের পর আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আলাদা গুম কমিশন করা হবে না। গুম প্রতিরোধ ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করবে মানবাধিকার কমিশন।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মানবাধিকার কমিশনে বড় পরিবর্তন
আসিফ নজরুল বলেন, আগে মানবাধিকার কমিশন ছিল “দন্তহীন” একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়োগ পদ্ধতি, এখতিয়ার এবং নেতৃত্বে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন আইনে এসব ত্রুটি সংশোধন করে কমিশনকে আরও ক্ষমতাসম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশন এখন সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাড়াও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতায় কাজ করতে পারবে। এতে মানবাধিকার রক্ষায় কমিশনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে।
নতুন কাঠামো ও এখতিয়ার
নতুন আইনে কমিশন গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে। এছাড়া সদস্য নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, আগের কমিশনের এখতিয়ারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের ঘাটতি ছিল। এবার সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে পারবে।
গুম আইনের সঙ্গে সমন্বয়
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, গুম প্রতিরোধ ও গুমের শিকারদের সুরক্ষায় মানবাধিকার কমিশন প্রধান দায়িত্ব পালন করবে। আলাদা গুম কমিশন না করে মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমেই এসব তদন্ত পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, “গুম প্রতিরোধ আইন আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। তবে মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমেই সেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে।”
তদন্ত ক্ষমতা ও বাধ্যবাধকতা
নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনের আদেশ প্রতিপালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হেফাজতে মৃত্যু সংক্রান্ত আইনসহ অন্যান্য মানবাধিকার সম্পর্কিত ক্ষেত্রেও কমিশনের তদন্তের সুযোগ থাকবে।
আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা চাই কমিশন হোক সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”
এইভাবে মানবাধিকার কমিশন এখন থেকে শুধু তদারক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় অনুসন্ধানী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।























