রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৫৫২ নেতা-কর্মী
- আপডেট সময় : ১১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / 52
ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, পুলিশের অভিযান জোরদার
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অক্টোবর থেকে চলতি নভেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৫৫২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, “রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল সদৃশ্য বস্তু নিক্ষেপ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। পুলিশ কঠোরভাবে তা দমন করছে।”
১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ, ৯টি যানবাহনে আগুন
কমিশনার জানান, ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫টি স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়া গত দুই দিনে রাজধানীর নয়টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা ও জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরির এই অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। ডিএমপি এখন পুরোপুরি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
ঝটিকা মিছিল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার
ডিএমপি কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি ঝটিকা মিছিল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।
“এই মিছিলগুলোর পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণের সঙ্গে জড়িত ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
অর্থের বিনিময়ে অংশগ্রহণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ঢাকার বাইরের জেলা থেকে এসে অর্থের বিনিময়ে এসব ঝটিকা মিছিলে যোগ দিচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তারা হেলমেট ও মাস্ক পরে ভোরবেলা বা ব্যস্ত সময়ে লক্ষ্যবস্তু স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আইনত অপরাধ।”
পুলিশের বার্তা: সন্ত্রাস নয়, নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার
রাজধানীতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে নাশকতা বা জনসন্ত্রাস সহ্য করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”


























