অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ: ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা এবং
ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের পথচলা
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪
- / 285
সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এবং পরিবর্তন প্রত্যাশী ছাত্র-জনতা ইতিমধ্যে সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন শুরু করেছে। সরকার প্রধান ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে পশ্চিমা বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার আশ্বাস মিলেছে। এটি সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক, বিশেষ করে ড. ইউনূসের বৈশ্বিক পরিচিতি এবং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তার সম্পর্কের কারণে।
তবে একজন নোবেল লরিয়েট হিসেবে ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একটি অস্থিতিশীল সমাজে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন এক নয়। ড. ইউনূসের কাছে জনগণের প্রত্যাশা এবং তার প্রতিশ্রুতির আলোকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও বেশ দূরে। প্রবল স্বৈরশাসনের ফলে সৃষ্ট সুবিধাভোগী এবং দুর্নীতিবাজ প্রশাসনকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সহজ নয়।
রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বিশেষত, স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগীদের অপসারণে বিলম্ব জনগণ মেনে নিতে পারছে না। এই অভ্যুত্থান বিরোধী দলের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল, যেখানে জনগণ শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ঘাপটি মেরে থাকা দলীয়করণ প্রশাসন এবং স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের চিহ্নিত করা। এছাড়া, যারা মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে তাদের দ্রুত মুক্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
বিগত সরকারের অধীনে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হওয়ায় অর্থনীতিকে রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। তবে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। ডিম-মুরগিসহ কিছু পণ্যের দাম নির্ধারণ করলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে বাজারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জ্বালানি মূল্য কমানোর পরও বাজারে এর প্রভাব দেখা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ঢাকা শহরের যানজট এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলাও নিয়ন্ত্রণহীন। সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকায় থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাদের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হলেও, জনজীবনে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং স্বস্তি ফিরিয়ে আনাও জরুরি দায়িত্ব।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনে যারা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্পিরিট থেকে বিচ্যুত হবে বা স্বৈরাচারের সহযোগীদের সাথে আপস করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন নিয়ে গঠিত এই সরকার ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। ড. ইউনূসের দক্ষতা এবং প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে জাতি আশা করছে, তিনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন।
আরো পড়ুন




























