পর্দার আড়ালে কী কথা হলো দুই প্রধানমন্ত্রীর?
- আপডেট সময় : ১০:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 16
কুয়ালালামপুরের প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় আজ এক ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সেখানে একান্তে মুখোমুখি হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলিয়ে নতুন সমীকরণ মেলানোর এই একান্ত বৈঠকটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহ্যবাহী পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। তবে সবার নজর ছিল তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে। দুই শীর্ষ নেতার এই একান্ত আলাপের পরেই শুরু হয় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মুখ অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন
- পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম
আলোচনার মূল টেবিলে যা থাকছে
পররাষ্ট্রসচিবের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভাগ্যোন্নয়নে বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে এই সফর থেকে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এবং সম্ভাবনাময় হালাল অর্থনীতির পরিধি বিস্তারে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।
এছাড়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও মধ্যাহ্নভোজ
দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বৈঠকের মূল অর্জনগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা।
এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করতে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত শিল্পীরা মালয় ও বাংলা—উভয় ভাষার গানসহ একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক মৈত্রীকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সূত্র: বাসস।
















