অস্ত্রধারীদের দেখলেই ব্রাশফায়ার: চট্টগ্রামে সিএমপির কড়া নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / 32
চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনে সিএমপির কঠোর অবস্থান
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও প্রকাশ্যে গুলির ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যে কেউ অস্ত্র হাতে দেখা যাবে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করতে হবে—প্রয়োজনে এসএমজি থেকে ব্রাশফায়ার চালানো হবে।”
মঙ্গলবার দুপুরে কমিশনারের ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে এই নির্দেশনা সিএমপির সব ইউনিটে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো—সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্রুত প্রতিহত করা, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকে।

অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ
সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই নির্দেশ “নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়”। তিনি বলেন, “যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর কখনোই এসএমজি ব্যবহার করা হবে না। তবে অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে হত্যাযজ্ঞ চালালে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ হবে।”
গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ-চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ সভায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কুখ্যাত অপরাধী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই নগরে অস্থিরতা বেড়েছে, এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন নির্দেশনা
পুলিশের টহল টিমগুলোকে সাবমেশিনগান (এসএমজি) ছাড়াও শিশা শটগান, গ্যাস গান এবং নাইন মি.মি পিস্তল বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা সাত থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করা হয়েছে।
পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী এনে শহরে ঢোকার পথ বন্ধ করতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। কমিশনার পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে—এবং এই পদক্ষেপে সব দায় তিনি নিজেই বহন করবেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
বন্দর জোনের এক সহকারী কমিশনার বলেন, “কমিশনার স্যার যেভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তাতে আমরা মাঠে নতুন উদ্দীপনা পেয়েছি। এবার কেউ ভাববে না যে সন্ত্রাসী হয়ে শহরে ঘুরে বেড়ানো সহজ।”
কোতোয়ালি থানার এক পরিদর্শক বলেন, “এসএমজি রেসপন্স মানে বেপরোয়া গুলি নয়, বরং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের সাহস দেওয়া। আইন মেনে প্রতিরোধের নির্দেশে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
সিএমপির বার্তা স্পষ্ট: ভয় নয়, প্রতিরোধ
ডিবি উত্তর বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “কমিশনারের এই নির্দেশ পুরো বাহিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন সবাই জানে—অস্ত্র হাতে নিয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ মানেই প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া।”
কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “আমরা চাই, কেউ যেন চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে অস্ত্র নিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর স্বপ্নও না দেখে। ব্রাশফায়ার নির্দেশ সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।”












