গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার: ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদে’ যা যা আছে
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 65
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার: ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদে’ যা যা আছে
(স্থান: ঢাকা) — দীর্ঘ ৮ মাসের আলাপ-আলোচনা ও ঐকমত্য প্রক্রিয়ার পর গতকাল ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করেন। ড. ইউনূস এই স্বাক্ষরকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘দ্বিতীয় অংশ’ এবং ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাই এই সনদের মূল লক্ষ্য। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর এই সনদ চূড়ান্ত করে। সনদে মোট ২৮টি অঙ্গীকার রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান বিষয়বস্তুগুলো নিম্নরূপ:
জুলাই সনদের মূল বিষয়বস্তু ও অঙ্গীকারগুলো (সংক্ষেপে):
১. গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও শহীদদের প্রতি সম্মান: * ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ইতিহাসে একটি বাঁক পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এই অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানকে সমুন্নত রাখা।

২. সাংবিধানিক সংস্কারের অঙ্গীকার: * সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। * সংবিধানের বিতর্কিত ও স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা সৃষ্টিকারী ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সংস্কার করা হবে। (বিশেষ করে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য আনা এবং আইন প্রণয়নে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা)।
৩. নিরপেক্ষ নির্বাচন ও ব্যবস্থার সংস্কার: * নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হয়। * নির্বাচনের আগে ও পরে জনগণের
ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: * বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
৫. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার: * পুলিশ, জনপ্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনীতিকরণ ও প্রভাবমুক্ত করে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কার করা হবে।
৬. দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা: * দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী, স্বাধীন ও কার্যকর করা। * অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৭. রাজনৈতিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: * বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা। * রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দী সকলের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করা।
৮. অন্যান্য সংস্কার: * শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। * জুলাই সনদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করবে।
সনদ স্বাক্ষরের এই দিনটিকে বহু রাজনৈতিক দলের নেতা ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করবে।












