বাংলাদেশ ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

চিরনিদ্রায় সুরের জাদুকরী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 40

ছবি: সংগৃহীত

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংগীতের এক মহাযুগের সমাপ্তি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই শোক সংবাদটি নিশ্চিত করেন।

নয় বছরের শৈশব থেকে আকাশছোঁয়া সাফল্য ১৯৩৩ সালে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী মাত্র ৯ বছর বয়সে সংগীতের আঙিনায় পা রাখেন। ১৯৪৩ সালে প্রথম গান রেকর্ডের মাধ্যমে শুরু হয় এক দীর্ঘ যাত্রা। পঞ্চাশের দশকেই নিজের স্বতন্ত্র গায়কী দিয়ে বলিউডে এক অজেয় অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় থেকেও নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় কৃতিত্ব।

বহুমুখী প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর শুরুতে চটুল সুরের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’-এর মতো চলচ্চিত্রে গজল গেয়ে তিনি নিজের গায়কীর গভীরতা প্রমাণ করেন। সাতটি ফিল্মফেয়ার এবং দুটি জাতীয় পুরস্কার তার অর্জনের ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছে। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিংবা ‘মেরা কুছ সামান’-এর মতো ধ্রুপদী সৃষ্টিগুলো তাকে আজীবন শ্রোতাদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতে রুচি আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সাথে তার দীর্ঘ দাম্পত্য ১৯৯৪ সালে বর্মণ সাহেবের মৃত্যু পর্যন্ত টিকে ছিল। আধুনিক গান নিয়ে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি তার টান ছিল আমৃত্যু। শেষ জীবনে নাতনি জেনাই ভোঁসলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। তার প্রয়াণে বিশ্ব সংগীত হারালো এক অনন্য সুরের কারিগরকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

চিরনিদ্রায় সুরের জাদুকরী

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সংগীতের এক মহাযুগের সমাপ্তি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই শোক সংবাদটি নিশ্চিত করেন।

নয় বছরের শৈশব থেকে আকাশছোঁয়া সাফল্য ১৯৩৩ সালে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী মাত্র ৯ বছর বয়সে সংগীতের আঙিনায় পা রাখেন। ১৯৪৩ সালে প্রথম গান রেকর্ডের মাধ্যমে শুরু হয় এক দীর্ঘ যাত্রা। পঞ্চাশের দশকেই নিজের স্বতন্ত্র গায়কী দিয়ে বলিউডে এক অজেয় অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় থেকেও নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় কৃতিত্ব।

বহুমুখী প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর শুরুতে চটুল সুরের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ‘উমরাও জান’-এর মতো চলচ্চিত্রে গজল গেয়ে তিনি নিজের গায়কীর গভীরতা প্রমাণ করেন। সাতটি ফিল্মফেয়ার এবং দুটি জাতীয় পুরস্কার তার অর্জনের ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছে। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিংবা ‘মেরা কুছ সামান’-এর মতো ধ্রুপদী সৃষ্টিগুলো তাকে আজীবন শ্রোতাদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতে রুচি আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সাথে তার দীর্ঘ দাম্পত্য ১৯৯৪ সালে বর্মণ সাহেবের মৃত্যু পর্যন্ত টিকে ছিল। আধুনিক গান নিয়ে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি তার টান ছিল আমৃত্যু। শেষ জীবনে নাতনি জেনাই ভোঁসলেকে নিয়েই ছিল তার পৃথিবী। তার প্রয়াণে বিশ্ব সংগীত হারালো এক অনন্য সুরের কারিগরকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :