ইউক্রেন সংঘাত বৈশ্বিক যুদ্ধের দিকে: পুতিনের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪
- / 511
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ইউক্রেন সংঘাত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) পুতিন পশ্চিমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাশিয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া ইতোমধ্যে একটি নতুন প্রজন্মের মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও এমন আক্রমণ হতে পারে, তবে বেসামরিক জনগণকে সতর্ক করা হবে।
পশ্চিমা অস্ত্র ও রুশ প্রতিক্রিয়া
পুতিন জানান, ১৯ নভেম্বর মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদনে ইউক্রেন এএটিএসএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এবং ২১ নভেম্বর ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো ও হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে রাশিয়ার ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হলেও যুদ্ধের গতিপথ পাল্টাতে পারেনি।
তিনি বলেন, “এ ধরনের আক্রমণ আঞ্চলিক সংঘাতকে বৈশ্বিক রূপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যারা তাদের অস্ত্র ইউক্রেনে ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, রাশিয়া প্রয়োজনে তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এর প্রতিক্রিয়া অবশ্যই হবে, এবং তা কঠোর।”
নতুন অস্ত্র ও পরীক্ষামূলক হামলা
পুতিন জানান, রাশিয়া সম্প্রতি “ওরেশনিক” নামে একটি নতুন প্রজন্মের মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ডনিপ্রো শহরের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তিনি দাবি করেন, এই আঘাত সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
এছাড়া, পুতিন ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মার্কিন পদক্ষেপ একটি বড় ভুল এবং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।”
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্রের সরবরাহ এবং রাশিয়ার পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই সংঘাতকে বৈশ্বিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া, ডনবাস অঞ্চলের ৮০ শতাংশ এবং জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনের ৭০ শতাংশ রয়েছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এই কার্যক্রমকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন হিসেবে দেখছে এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের পরিস্থিতি পশ্চিমাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।
























