বাংলাদেশ ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

১১ কোটি নাগরিকের তথ্য ফাঁস

প্রাথমিক তদন্তে জয়ের নাম, গ্রেপ্তার বরকতুল্লাহ

ইনসাফ বিশ্ব অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
  • / 257
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সংবাদটি শেয়ার করুন :

ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত ১১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই তথ্যগুলো ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Insaf World Banner 1

বুধবার (৯ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যে এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী, কম্পিউটার কাউন্সিল কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের তথ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবে না।

এ চুক্তির অধীনে ২০১৯ সালে ১১ কোটিরও বেশি নাগরিকের তথ্যের মিরর কপি তৈরি করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এ তথ্য বিক্রি করে। এরপর থেকে তারা porichoy.gov.bd প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১৮০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য বিক্রি করে আসছে।

Insaf World Banner 2

ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহ বেআইনিভাবে ডেটা সেন্টারে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই তথ্য বাণিজ্য থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কাফরুল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহ, ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসের পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান শরিফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহাবুবুর রহমান, এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের সাবেক পরিচালক আবদুল বাতেন।

এ ঘটনায় সরকার ইতিমধ্যে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

১১ কোটি নাগরিকের তথ্য ফাঁস

প্রাথমিক তদন্তে জয়ের নাম, গ্রেপ্তার বরকতুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
সংবাদটি শেয়ার করুন :

ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত ১১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই তথ্যগুলো ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Insaf World Banner 1

বুধবার (৯ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যে এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী, কম্পিউটার কাউন্সিল কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের তথ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবে না।

এ চুক্তির অধীনে ২০১৯ সালে ১১ কোটিরও বেশি নাগরিকের তথ্যের মিরর কপি তৈরি করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এ তথ্য বিক্রি করে। এরপর থেকে তারা porichoy.gov.bd প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১৮০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য বিক্রি করে আসছে।

Insaf World Banner 2

ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহ বেআইনিভাবে ডেটা সেন্টারে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই তথ্য বাণিজ্য থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কাফরুল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহ, ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসের পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান শরিফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহাবুবুর রহমান, এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের সাবেক পরিচালক আবদুল বাতেন।

এ ঘটনায় সরকার ইতিমধ্যে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :