উৎপাদন কমিয়েছে এস আলম, রামপাল ও পায়রা
বকেয়া বিল নিয়ে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
- / 243
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করা ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দিয়েছে আদানি গ্রুপ। এ হুমকির পেছনে রয়েছে প্রায় ১০,০৮৬ কোটি টাকার বকেয়া বিল। স্থানীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো, যেমন বানসখালীর ১,২২৪ মেগাওয়াট এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ১,৩২০ মেগাওয়াট বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং যৌথ সমন্বয় কমিটির সভাপতি এম.আর. কৃষ্ণ রাও একটি চিঠিতে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিসি) থেকে প্রয়োজনীয় এলসি প্রদানের অনুরোধ করেছেন, যা প্রায় ১৭০.০৩ মিলিয়ন ডলারের। এছাড়া, তিনি বকেয়া ৮৪৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের তাগিদ দেন, যা পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এলসি প্রদান না করা এবং বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানি গ্রুপ বাধ্য হয়ে কয়লা সরবরাহকারী ও অন্যান্য কন্ট্রাক্টরদের কাজের মূলধন রক্ষা করতে পারছে না। এ কারণে ৩০ অক্টোবর ২০২৪-এর মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে, ৩১ অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হতে পারে।
একই সময়, বানসখালীর এস আলম গ্রুপের ১,২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ২,০০০ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধের সমস্যার সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানির ১,৩২০ মেগাওয়াট প্ল্যান্টও ইউনিট ২-এর সংস্কারের জন্য দুই মাস বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এম. খোরশেদুল আলম জানিয়েছেন, বকেয়া ৫,৮০০ কোটি টাকা পরিশোধ না হওয়ার কারণে কার্যকরী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের ফ্রেন্ডশিপ প্ল্যান্ট কয়লা সংকটের কারণে ইউনিট ২ বন্ধ রাখলেও, ইউনিট ১ থেকে ৫৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
বিপিডিসি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের মতে, বিদ্যুৎ টারিফ এবং উৎপাদন খরচের পার্থক্যের কারণে প্রতি মাসে ৩,৫২১ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। জুন ২০২৪ পর্যন্ত তাদের বকেয়া বিদ্যুৎ ক্রয় দায় ৩২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং দিন দিন এই পরিমাণ বাড়ছে।
























