বাংলাদেশ ০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

মানবাধিকার বাস্তবায়ন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত

এ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৪
  • / 357
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সংবাদটি শেয়ার করুন :

সৃষ্টিলগ্ন হইতে মানুষ্য জাতির ক্রমবিকাশের সাথে সাথে মানবাধিকারের ধারণা জন্ম নিতে থাকে মানুষের মনে। পরম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের সেই একই বাসনায় তার তরফ থেকেও অধিকার সৃষ্টির লক্ষ্যেই সম্ভবতঃ হযরত আদম (আঃ) এর সঙ্গী হিসেবে হযরত বিবি হাওয়াকে সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত হয়। তারপর সৃষ্টি হয় বিভিন্ন জাতী, গোষ্ঠি, রাষ্ট্র ও সমাজের। আর মানুষের কল্যানের জন্যই সমাজ, রাষ্ট্র আইন ও বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি।

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ তথা গোটা মানব জাতির কল্যাণই বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং বিচার ব্যবস্থা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। তাই ন্যায় বিচার বাস্তবায়নের মূল শর্তই হচ্ছে মানবাধিকার বাস্তবায়ন। আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যকীয় শর্তই হচ্ছে আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

সকল ধর্মেই মানবাধিকারের কথা স্বীকৃত। প্রায় ১৪ শত বছর আগেই ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের সম অধিকারের ঘোষনা দিয়াছে, যাহা মানবাধিকারের বহিঃপ্রকাশ বটে। সারা বিশ্বে মানবাধিকারের যে শ্রেষ্ঠ দলিল “সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা- ১৯৪৮, এ যে সকল অধিকারগুলোকে বিশ্ব ব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে ইসলামী মানবাধিকারের যথেষ্ট মিল রয়েছে। Univ ersal Declaration of human rights- ১৯৪৮,

Insaf World Banner 1

UDSR এর ৩ নং অনুচ্ছেদে জীবন
পারীরতা ও ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার বর্ণিত হয়েছে। “আল্লাহ যে প্রাণকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করো না।” (সুরা বনি ইসরাইল। আয়াত-৬৬)। “যে কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করবে সে যেন পৃথিবীর সকল মানব গোষ্ঠিকে প্রাণে রক্ষা করলো” (সুরা মায়েদা এ আয়াত- ৬২)

UDSR এর ৪ নং অনুচ্ছেদে কৃতদাস ও গোলার্থী হতে মুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ভাষায় আামদের সম্পর্কে বলা হয়েছে- “তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খেতে দেবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও ভাই পরতে দেবে। মনে রেখ ভারাও তোমাদের মত মানুষ”।

Insaf World Banner 2

UDSR এর ৫ নং অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর অমানবিক ও অপমান জনক শান্তি হতে মুক্তির অধিকার বর্ণিত হয়েছে। কোরআনের ভাষায় কেহ অন্যায় ভাবে নিহত হইলে তাহার উত্তরাধিকারীকে তো আমি উহা প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। (সুরা বনি ইসরাইল- আয়াত ৩৩)

UDSR এর ৬ নং অনুচ্ছেদে আইনের সম্মুখে ব্যক্তি হিসাবের মর্যাদা লাভের অধিকার বর্ণিত হয়েছে। কোরানের ভাষায়- “আল্লাহ মানুষকে সকল সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করেছেন- (সুরা বণী ইসরাইল-৭০)। এই সৃষ্টির সেরা বলেই মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। যাহা অন্য কোন জীবের মধ্যে নাই। UDSR এর

৭ নং অনুচ্ছেদে “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান,

৮ নং এ মৌলিক অধিকার লংঘনে প্রতিকার লাভের অধিকার,

৯ নং এ অন্যায়, ভাবে গ্রেফতার ও আটক হতে মুক্তির অধিকার

১০ নং এ বিচার পাওয়ার অধিকার

১১ নং এ অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসাবে গন্য হওয়ার অধিকারের কথা
বলা হয়েছে। এই পাঁচটি অনুচ্ছেদ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায় রসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছিলেন একজন আরব আর একজন অনারবের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয় এবং একজন অনারব আরব ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। তোমরা সকলেই একই আদমের সন্তান। কোরআনের ভাষায় “তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার কার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায় পরায়নতার সাথে করবে” হাদিসের ভাষায় যদি মোহাম্মদের কন্যা ফাতেমাও চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হয় আমি তাহারও হাত কর্তনের নির্দেশ দিতাম”। সুরা নিসায় বলা হয়েছে “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে এই বিষয়ে আদেশ করিতেছেন যে, হক দারকে তাহার হক পৌছাইয়া দাও এবং যে বিষয়েও যে যখন মানুষের বিবাদ মিমাংসা কর, তখন ন্যায়ের সহিত মিমাংসা করিবে।

এই ভাবে UDSR এর ঘোষিত সকল অনুচ্ছেদের সংগেই প্রায় ইসলামী মানবাধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। মানবা-ধিকার শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো মানবের অধিকার। অর্থাৎ মানুষের বেচে থাকার সকল অধিকারসহ মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য স্বীকৃত বিভিন্ন অধিকারকেই আমরা মানবাধিকার হিসাবে সংজ্ঞাইত করতে পারি। এই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইনের শাসন জরুরী। আর এই জরুরাতের জন্য প্রয়োজন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।

সে কারণে মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলার আগে আইনের শাসন আর ন্যায় বিচার সম্পর্কে আলোচনা জরুরী। মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু-শাসন প্রতিষ্ঠাকেই আমরা আইনের শাসন বলতে পারি। এই সুশাসন
মানে ন্যায়ের শাসন। ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আইন ও বিচার একে অপরের সহিত সম্পর্ক যুক্ত এবং নির্ভরশীল। অন্যথায় প্রকৃত অর্থে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না পেয়ে বরং তা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।

জনসাধারণের জন্য Access to justice অথবা ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ বা অধিকার থাকে না। যাদেরকে প্রতিপালনে শাসন ও বিচার ব্যবস্থা সেই নাগরিক সমাজ অনেক ক্ষেত্রেই অধিকার সচেতন নয়। আর এই সুযোগে শাসক গোষ্ঠি তাদের ক্ষমতা করায়ত্ব রাখার অনেক প্রয়াস চালায়। সে কারণে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসহ আমাদের দেশেও বিচারের ক্ষেত্রে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বলা হয়ে থাকে সবল আর দুর্বলের মধ্যে মামলা হইলে আইনের পরাজয় ঘটে।

দুর্বল আর দুর্বলের মধ্যে মামলা হলে আইন বিজয়ী হয় এবং সবল আর সবল এর মধ্যে মামলায় আইন অসহায়ত্ব বোধ করে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে। প্রকৃত পক্ষে আইনের প্রয়োগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের আন্তরিকতার অভাব ও নেতিবাচক মনোভাবই এই অবস্থার জন্য দায়ী- একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ ব্যাপারে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

ইংল্যান্ডবাসীর স্বাধীনতার প্রথম সোপান হিসাবে পরিচিত ঐতিহাসিক Magna Carta বা মহাসনদও এ ভাবেই সৃষ্টি হয়। রাজা জনের উচ্ছৃংখলতায় উত্যক্ত হয়ে ইংল্যান্ডের ক্ষুব্ধ ব্যারনরা ১২১৫ খ্রিঃ ১৫ই জুন তাকে জন কল্যাণের এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরে বাধ্য করেন। সু-শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নের দ্বারা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে কোথায়, কাদের জন্য এবং কাদেরকে শাসন?

এই শাসনের সাথে প্রধান এবং প্রথম সম্পর্ক রাষ্ট্রের। সুতরাং সু- শাসন নিয়ে আলোচনার আগে রাষ্ট্রের ধারণাটি পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন। উড্রো উইলসন রাষ্ট্রকে সংজ্ঞাইত করেছেন এ ভাবে- “The state is a people organized for law with in a definite territory. অর্থাৎ রাষ্ট্র হলো কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জনসমষ্টি। দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, নির্দিষ্ট ভূখন্ডের জনগোষ্ঠির জন্য মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রশ্নে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আর এ দায়িত্ব পালন করে শাসক গোষ্ঠি।

এই শাসন ও প্রতিপালনের সাথে আইনের সম্পর্ক রয়েছে বিধায় তাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। আর এ ভাবেই ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। তাই অধ্যাপক স্যামন্ড আইনকে সংজ্ঞাইত করেছেন “আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রয়োগকৃত বিধি ও নীতি সমুহ যা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হিউয়ার্টের সুস্পষ্ট উচ্চারণ,

The rule of law means the supremacy or dominance of law. শাসন ও বিচারের ক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্যই মানবাধিকারকে নিশ্চিত করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘাতিক ভাবে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেক্ষেত্রে মানবাধিকারের কতটুকুন বাস্তবায়ন ঘটে এটাও কিছুটা আলোচনা করা দরকার।

প্রকৃত অর্থে এই দুইঅধিকারের মধ্যে ধারণাগত, অবস্থানগত ও অধিকার প্রয়োগগত কিছু তফাৎ আছে। নাগরিক অধিকার সাধারণত মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে দাবী ও ভোগ করতে পারে। যেমন, সম্পত্তির অধিকার, বাণিজ্য করার অধিকার, মামলা করার অধিকার, চিকিৎসা সেবা পাইবার অধিকার ইত্যাদি যেগুলো রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত।

এ সবই মানবাধিকারও বটে। তবে সার্বিক অর্থে মানবাধিকার আরও একটু ব্যাপক। মানবাধিকারের ধারণা পর্যালোচনা করলে প্রধানতঃ এর দুটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। একটি সার্বজনীন সহজাততা এবং অপরটি অহস্তান্ত রযোগ্যতা মানবা-ধিকার ও নাগরিক অধিকারগুলোর বিভিন্ন দিক আলোচনা করে বলা যায় যে, সকল নাগরিক অধিকার মানবাধিকরের পর্যায়ে পড়লেও সকল মানবাধিকার উন্নত- অনুন্নত নির্বিশেষে কোন দেশেই এখনও নাগরিক অধিকার হিসাবে পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি।

তাই দেখা যাচ্ছে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার চেয়ে মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ধারণা ও প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে মানুষের জন্য অধিকতর শুভ। মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। খুবই শ্রুতি মধুর- “ন্যায় বিচার” শব্দটি নিশ্চিত করা খুবই কঠিন।

অনেকে বলতে পারেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে- আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। কথাটি অনেকাংশে সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নজরে পড়ে, প্রথমতঃ আইন। এই আইন যুগপো- যোগী কিনা?

প্রণীত আইন দ্বারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না খর্ব হচ্ছে? দ্বিতীয়ত: শাসন। এই শাসন ব্যবস্থা কি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে? ব্যক্তি স্বার্থে, দলীয় স্বার্থে না জনগণের স্বার্থে? পরবর্তীতে আসে বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে নিয়ন্ত্রণ মুক্ত বা স্বাধীন কিনা?

যদিও আমাদের দেশে বিচার বিভাগ নিকট অতীতে পৃথকীকরণ হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়েছে কি না? এ বিষয়ে জনমনে এখনও সংশয় কাটে নি।

এই সব প্রতিবন্ধকতা দুর করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য যাহাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন তারা হলেন রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক, পুলিশ বিভাগ, ডাক্তার, বিজ্ঞ আইনজীবী, বিজ্ঞ বিচারক বৃন্দ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ধম যাজকগণ।

একজন বিচারককে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে উল্লেখিত সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে সঠিক পরামর্শ এবং তথ্য দিতে হবে। একজন বিচার প্রার্থী যখন তার অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবেন তখন ন্যায় বিচারের প্রত্যাশাও করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বিচারকের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

১। রাজনীতিবিদগণ তো মানুষের কল্যানের কথাই বলেন। তাই দলীয় আদর্শের মধ্য থেকে মানুষের সঠিক অধিকারের কথাটা তাদের ভাবনার মধ্যে থাকলে মানবাধিকার বাস্তবায়নের
মাধ্যমে ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

২। সমাজ সেবককে তার ভাল মানসিকতা নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বিহীন ভাবে সার্বিক বিষয়টা সাংবাদিক বা পুলিশের বা সমাজের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

৩। সাংবাদিকদেরকে তৎপর হতে হবে, যাহাতে সত্য ঘটনাকে আড়াল করে সমাজ হিতৈষী পুলিশ বিভাগ বা আইন শৃংখলার নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগ বা অন্য যে কেউ ক্ষমতা খাটিয়ে সত্য বিষয়টি উৎঘাটন না করার ষড়যন্ত্র করে।

৪। পুলিশ বিভাগকেও এক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে মানুষকে সেবা দেওয়ার মনোভাব নিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার তদন্ত কাজে যেন কেউ কোন রকম প্রভাব বিস্তার না করে। সেদিকে শক্ত মনোবলী হওয়া।

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের কাছেই মানুষের প্রত্যাশা একটু বেশী।

কারণ তার তদন্তই নির্ভর করবে মানবাধিকার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া কতটুকুন সম্ভব কি অসম্ভব। এ ছাড়াও Police শব্দটির বানানে ব্যবহৃত বর্ণগুলো থেকে বিশ্লেষণ করে যে অহংকার বোধ করেন তার মধ্যেও পুলিশ বাহিনীর নৈতিক দায়িত্বশীলতার এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ তথা মানব কল্যানের ধারণা নিহিত। যেমন-

P: Polite (শিষ্টাচারী);

O: Obedient (বাধ্য)

L: Loyal (অনুগত)

I: Intelligent (বিচক্ষণ)

C: Courageous (সাহসী)

E: Efficient (সু-দক্ষ)।

৫। ডাক্তারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সাধারণ নাগরিকের চিকিৎসা সেবার ব্যাপারে যেমন, আবার মামলা
সংক্রান্ত ব্যাপারেও ডাক্তারের মেডিকেল রিপোর্ট এর সঠিক প্রয়োগ মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

৬। বিজ্ঞ আইনজীবী হিসাবে প্রত্যেকেরই উচিত একজন বিচার প্রার্থী যখন তার কাছে আসে তখন তাকে শুধু মামলা করার ব্যাপারে উৎসাহিত না করা। মামলা করলে কতুটুকুন ভাল ফলাফল হবে বা কি পরিমাণ শত্রুতা বৃদ্ধি হবে, তার মামলার আর্থিক অবস্থা কী হবে এবং পরিশেষে ফলাফল কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি সম্পর্কে বিচার প্রার্থীকে অবহিত করা এবং তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।

একজন এ্যাডভোকেট কখনই অপর পক্ষ দ্বারা যে কোন লোভের বশবর্তী হয়ে নিজ পক্ষকে ক্ষতি করে তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ করে না দেওয়া। আইনজীবীকে খেয়াল রাখতে হবে তিনি শুধু আইনজীবী নন, তিনি একজন মানুষও বটে। তাই পরকালেও তার কার্যকলাপের জন্য জবাব দিহিতা রয়েছে।

৭। বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আবেগের বশবর্তী না হয়ে, চোখ বাধা বিচারকের প্রতীক কে স্মরণ করে বিচার কাজে তার সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি, একটা সমাজ, জাতি ও দেশকে বিভ্রান্তকর পথ থেকে উদ্ধার করতে সঠিক দিশা দিয়া রাহবাহ হিসাবে কাজ করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ন্যায় বিচারের পথকে সুগম করতে পারেন।

৮। শিক্ষকগণকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষিত মা একটা শিক্ষিত জাতির জন্ম দিতে পারে। শিক্ষক তার শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে মননে, মগজে মানবিক এবং অধিকার সম্পর্কিত সচেতনতার শিক্ষা দিয়ে মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণাকে এগিয়ে দিতে পারেন।

৯। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ যার যার ধর্মের অনুসারী- দেরকে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারেন।

উল্লেখিত আলোচিত সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই এক একজন মানবাধিকার কর্মী। এ ছাড়াও আমি মনে করি নাগরিক অধিকার সহ মানবাধিকারের বিষয়ে সচেতন এবং মানবিক বোধ ও গুণাবলী সম্পন্ন প্রতিটি মানুষ- যারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট তারা সকলেই মানবাধিকার কর্মী উল্লেখিত ব্যক্তিদের করনীয় এবং ভূমিকার পাশাপাশি মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যা করণীয় তা সুপারিশ আকারে তুলে ধরছি।

১। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকারত্ব দূর করা।

২। চাকুরীজীবীদের বেতন কাঠামো যুগ উপযোগী করে তৈরি করা, যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে সৎ ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। যাতে অসৎ হওয়ার মানসিকতা না থাকে।

৩। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন শৃংখলার

উন্নতি ঘটানো।

৪। বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া এবং কার্য তদারকি

করার জন্য জুডিসিয়াল কাউন্সিল করা।

৫। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি কল্পে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৬। পৃথক তদন্ত সেল গঠন করা এবং তদন্ত কাযে উন্নত
প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৭। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব মুক্ত থেকে সৎ ও যোগ্য আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়া।

৮। মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাক্ষী প্রদানের সুযোগ করে দিয়ে বিচার কার্যে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

৯। মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সৃষ্টির পাশাপাশি অধিকতর সচেতন করে গড়ে তোলা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সততা, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করা।

১০। সংবিধানে লিপিবদ্ধ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি ও মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সম্বন্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা (সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে উল্লেখ্য)।

বিশ্বের প্রথম আইন হিসাবে পরিচিত “Twelve Table” বারো বিধি। সেখানে দেখা যাচ্ছে মানবাধিকার কর্মীদের

মানবিক বোধ ও উদ্যোগ এবং জনসাধারণের অধিকত্বর সচেতনতা, মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু-শাসন প্রতিষ্ঠায় কিভাবে ভূমিকা রাখে। এই ধারাবাহিকতায়ই দেশে দেশে নাগরিক অধিকার তথা মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু- শাসন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় বিচারের চেষ্টা চলছে।

আমাদের প্রত্যাশা- আমাদের দেশেও মানবাধিকার কর্মী এবং সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং সরকারের শুভ ও ইতিবাচক উদ্যোগে মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা জনকল্যাণে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। তাই বলতে দ্বিধা নেই যে “মানবাধিকার বাস্তবায়ন-ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

মানবাধিকার বাস্তবায়ন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত

আপডেট সময় : ০৪:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৪
সংবাদটি শেয়ার করুন :

সৃষ্টিলগ্ন হইতে মানুষ্য জাতির ক্রমবিকাশের সাথে সাথে মানবাধিকারের ধারণা জন্ম নিতে থাকে মানুষের মনে। পরম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের সেই একই বাসনায় তার তরফ থেকেও অধিকার সৃষ্টির লক্ষ্যেই সম্ভবতঃ হযরত আদম (আঃ) এর সঙ্গী হিসেবে হযরত বিবি হাওয়াকে সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত হয়। তারপর সৃষ্টি হয় বিভিন্ন জাতী, গোষ্ঠি, রাষ্ট্র ও সমাজের। আর মানুষের কল্যানের জন্যই সমাজ, রাষ্ট্র আইন ও বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি।

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ তথা গোটা মানব জাতির কল্যাণই বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং বিচার ব্যবস্থা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। তাই ন্যায় বিচার বাস্তবায়নের মূল শর্তই হচ্ছে মানবাধিকার বাস্তবায়ন। আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যকীয় শর্তই হচ্ছে আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

সকল ধর্মেই মানবাধিকারের কথা স্বীকৃত। প্রায় ১৪ শত বছর আগেই ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের সম অধিকারের ঘোষনা দিয়াছে, যাহা মানবাধিকারের বহিঃপ্রকাশ বটে। সারা বিশ্বে মানবাধিকারের যে শ্রেষ্ঠ দলিল “সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা- ১৯৪৮, এ যে সকল অধিকারগুলোকে বিশ্ব ব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে ইসলামী মানবাধিকারের যথেষ্ট মিল রয়েছে। Univ ersal Declaration of human rights- ১৯৪৮,

Insaf World Banner 1

UDSR এর ৩ নং অনুচ্ছেদে জীবন
পারীরতা ও ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার বর্ণিত হয়েছে। “আল্লাহ যে প্রাণকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করো না।” (সুরা বনি ইসরাইল। আয়াত-৬৬)। “যে কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করবে সে যেন পৃথিবীর সকল মানব গোষ্ঠিকে প্রাণে রক্ষা করলো” (সুরা মায়েদা এ আয়াত- ৬২)

UDSR এর ৪ নং অনুচ্ছেদে কৃতদাস ও গোলার্থী হতে মুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ভাষায় আামদের সম্পর্কে বলা হয়েছে- “তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খেতে দেবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও ভাই পরতে দেবে। মনে রেখ ভারাও তোমাদের মত মানুষ”।

Insaf World Banner 2

UDSR এর ৫ নং অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর অমানবিক ও অপমান জনক শান্তি হতে মুক্তির অধিকার বর্ণিত হয়েছে। কোরআনের ভাষায় কেহ অন্যায় ভাবে নিহত হইলে তাহার উত্তরাধিকারীকে তো আমি উহা প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। (সুরা বনি ইসরাইল- আয়াত ৩৩)

UDSR এর ৬ নং অনুচ্ছেদে আইনের সম্মুখে ব্যক্তি হিসাবের মর্যাদা লাভের অধিকার বর্ণিত হয়েছে। কোরানের ভাষায়- “আল্লাহ মানুষকে সকল সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করেছেন- (সুরা বণী ইসরাইল-৭০)। এই সৃষ্টির সেরা বলেই মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। যাহা অন্য কোন জীবের মধ্যে নাই। UDSR এর

৭ নং অনুচ্ছেদে “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান,

৮ নং এ মৌলিক অধিকার লংঘনে প্রতিকার লাভের অধিকার,

৯ নং এ অন্যায়, ভাবে গ্রেফতার ও আটক হতে মুক্তির অধিকার

১০ নং এ বিচার পাওয়ার অধিকার

১১ নং এ অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসাবে গন্য হওয়ার অধিকারের কথা
বলা হয়েছে। এই পাঁচটি অনুচ্ছেদ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায় রসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছিলেন একজন আরব আর একজন অনারবের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয় এবং একজন অনারব আরব ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। তোমরা সকলেই একই আদমের সন্তান। কোরআনের ভাষায় “তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার কার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায় পরায়নতার সাথে করবে” হাদিসের ভাষায় যদি মোহাম্মদের কন্যা ফাতেমাও চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হয় আমি তাহারও হাত কর্তনের নির্দেশ দিতাম”। সুরা নিসায় বলা হয়েছে “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে এই বিষয়ে আদেশ করিতেছেন যে, হক দারকে তাহার হক পৌছাইয়া দাও এবং যে বিষয়েও যে যখন মানুষের বিবাদ মিমাংসা কর, তখন ন্যায়ের সহিত মিমাংসা করিবে।

এই ভাবে UDSR এর ঘোষিত সকল অনুচ্ছেদের সংগেই প্রায় ইসলামী মানবাধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। মানবা-ধিকার শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো মানবের অধিকার। অর্থাৎ মানুষের বেচে থাকার সকল অধিকারসহ মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য স্বীকৃত বিভিন্ন অধিকারকেই আমরা মানবাধিকার হিসাবে সংজ্ঞাইত করতে পারি। এই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইনের শাসন জরুরী। আর এই জরুরাতের জন্য প্রয়োজন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।

সে কারণে মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলার আগে আইনের শাসন আর ন্যায় বিচার সম্পর্কে আলোচনা জরুরী। মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু-শাসন প্রতিষ্ঠাকেই আমরা আইনের শাসন বলতে পারি। এই সুশাসন
মানে ন্যায়ের শাসন। ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আইন ও বিচার একে অপরের সহিত সম্পর্ক যুক্ত এবং নির্ভরশীল। অন্যথায় প্রকৃত অর্থে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না পেয়ে বরং তা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।

জনসাধারণের জন্য Access to justice অথবা ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ বা অধিকার থাকে না। যাদেরকে প্রতিপালনে শাসন ও বিচার ব্যবস্থা সেই নাগরিক সমাজ অনেক ক্ষেত্রেই অধিকার সচেতন নয়। আর এই সুযোগে শাসক গোষ্ঠি তাদের ক্ষমতা করায়ত্ব রাখার অনেক প্রয়াস চালায়। সে কারণে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসহ আমাদের দেশেও বিচারের ক্ষেত্রে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বলা হয়ে থাকে সবল আর দুর্বলের মধ্যে মামলা হইলে আইনের পরাজয় ঘটে।

দুর্বল আর দুর্বলের মধ্যে মামলা হলে আইন বিজয়ী হয় এবং সবল আর সবল এর মধ্যে মামলায় আইন অসহায়ত্ব বোধ করে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে। প্রকৃত পক্ষে আইনের প্রয়োগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের আন্তরিকতার অভাব ও নেতিবাচক মনোভাবই এই অবস্থার জন্য দায়ী- একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ ব্যাপারে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

ইংল্যান্ডবাসীর স্বাধীনতার প্রথম সোপান হিসাবে পরিচিত ঐতিহাসিক Magna Carta বা মহাসনদও এ ভাবেই সৃষ্টি হয়। রাজা জনের উচ্ছৃংখলতায় উত্যক্ত হয়ে ইংল্যান্ডের ক্ষুব্ধ ব্যারনরা ১২১৫ খ্রিঃ ১৫ই জুন তাকে জন কল্যাণের এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরে বাধ্য করেন। সু-শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নের দ্বারা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে কোথায়, কাদের জন্য এবং কাদেরকে শাসন?

এই শাসনের সাথে প্রধান এবং প্রথম সম্পর্ক রাষ্ট্রের। সুতরাং সু- শাসন নিয়ে আলোচনার আগে রাষ্ট্রের ধারণাটি পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন। উড্রো উইলসন রাষ্ট্রকে সংজ্ঞাইত করেছেন এ ভাবে- “The state is a people organized for law with in a definite territory. অর্থাৎ রাষ্ট্র হলো কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জনসমষ্টি। দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, নির্দিষ্ট ভূখন্ডের জনগোষ্ঠির জন্য মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রশ্নে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আর এ দায়িত্ব পালন করে শাসক গোষ্ঠি।

এই শাসন ও প্রতিপালনের সাথে আইনের সম্পর্ক রয়েছে বিধায় তাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। আর এ ভাবেই ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। তাই অধ্যাপক স্যামন্ড আইনকে সংজ্ঞাইত করেছেন “আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রয়োগকৃত বিধি ও নীতি সমুহ যা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হিউয়ার্টের সুস্পষ্ট উচ্চারণ,

The rule of law means the supremacy or dominance of law. শাসন ও বিচারের ক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্যই মানবাধিকারকে নিশ্চিত করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘাতিক ভাবে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেক্ষেত্রে মানবাধিকারের কতটুকুন বাস্তবায়ন ঘটে এটাও কিছুটা আলোচনা করা দরকার।

প্রকৃত অর্থে এই দুইঅধিকারের মধ্যে ধারণাগত, অবস্থানগত ও অধিকার প্রয়োগগত কিছু তফাৎ আছে। নাগরিক অধিকার সাধারণত মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে দাবী ও ভোগ করতে পারে। যেমন, সম্পত্তির অধিকার, বাণিজ্য করার অধিকার, মামলা করার অধিকার, চিকিৎসা সেবা পাইবার অধিকার ইত্যাদি যেগুলো রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত।

এ সবই মানবাধিকারও বটে। তবে সার্বিক অর্থে মানবাধিকার আরও একটু ব্যাপক। মানবাধিকারের ধারণা পর্যালোচনা করলে প্রধানতঃ এর দুটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। একটি সার্বজনীন সহজাততা এবং অপরটি অহস্তান্ত রযোগ্যতা মানবা-ধিকার ও নাগরিক অধিকারগুলোর বিভিন্ন দিক আলোচনা করে বলা যায় যে, সকল নাগরিক অধিকার মানবাধিকরের পর্যায়ে পড়লেও সকল মানবাধিকার উন্নত- অনুন্নত নির্বিশেষে কোন দেশেই এখনও নাগরিক অধিকার হিসাবে পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি।

তাই দেখা যাচ্ছে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার চেয়ে মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ধারণা ও প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে মানুষের জন্য অধিকতর শুভ। মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। খুবই শ্রুতি মধুর- “ন্যায় বিচার” শব্দটি নিশ্চিত করা খুবই কঠিন।

অনেকে বলতে পারেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে- আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। কথাটি অনেকাংশে সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নজরে পড়ে, প্রথমতঃ আইন। এই আইন যুগপো- যোগী কিনা?

প্রণীত আইন দ্বারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না খর্ব হচ্ছে? দ্বিতীয়ত: শাসন। এই শাসন ব্যবস্থা কি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে? ব্যক্তি স্বার্থে, দলীয় স্বার্থে না জনগণের স্বার্থে? পরবর্তীতে আসে বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে নিয়ন্ত্রণ মুক্ত বা স্বাধীন কিনা?

যদিও আমাদের দেশে বিচার বিভাগ নিকট অতীতে পৃথকীকরণ হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়েছে কি না? এ বিষয়ে জনমনে এখনও সংশয় কাটে নি।

এই সব প্রতিবন্ধকতা দুর করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য যাহাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন তারা হলেন রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক, পুলিশ বিভাগ, ডাক্তার, বিজ্ঞ আইনজীবী, বিজ্ঞ বিচারক বৃন্দ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ধম যাজকগণ।

একজন বিচারককে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে উল্লেখিত সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে সঠিক পরামর্শ এবং তথ্য দিতে হবে। একজন বিচার প্রার্থী যখন তার অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবেন তখন ন্যায় বিচারের প্রত্যাশাও করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বিচারকের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

১। রাজনীতিবিদগণ তো মানুষের কল্যানের কথাই বলেন। তাই দলীয় আদর্শের মধ্য থেকে মানুষের সঠিক অধিকারের কথাটা তাদের ভাবনার মধ্যে থাকলে মানবাধিকার বাস্তবায়নের
মাধ্যমে ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

২। সমাজ সেবককে তার ভাল মানসিকতা নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বিহীন ভাবে সার্বিক বিষয়টা সাংবাদিক বা পুলিশের বা সমাজের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

৩। সাংবাদিকদেরকে তৎপর হতে হবে, যাহাতে সত্য ঘটনাকে আড়াল করে সমাজ হিতৈষী পুলিশ বিভাগ বা আইন শৃংখলার নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগ বা অন্য যে কেউ ক্ষমতা খাটিয়ে সত্য বিষয়টি উৎঘাটন না করার ষড়যন্ত্র করে।

৪। পুলিশ বিভাগকেও এক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে মানুষকে সেবা দেওয়ার মনোভাব নিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার তদন্ত কাজে যেন কেউ কোন রকম প্রভাব বিস্তার না করে। সেদিকে শক্ত মনোবলী হওয়া।

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের কাছেই মানুষের প্রত্যাশা একটু বেশী।

কারণ তার তদন্তই নির্ভর করবে মানবাধিকার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া কতটুকুন সম্ভব কি অসম্ভব। এ ছাড়াও Police শব্দটির বানানে ব্যবহৃত বর্ণগুলো থেকে বিশ্লেষণ করে যে অহংকার বোধ করেন তার মধ্যেও পুলিশ বাহিনীর নৈতিক দায়িত্বশীলতার এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ তথা মানব কল্যানের ধারণা নিহিত। যেমন-

P: Polite (শিষ্টাচারী);

O: Obedient (বাধ্য)

L: Loyal (অনুগত)

I: Intelligent (বিচক্ষণ)

C: Courageous (সাহসী)

E: Efficient (সু-দক্ষ)।

৫। ডাক্তারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সাধারণ নাগরিকের চিকিৎসা সেবার ব্যাপারে যেমন, আবার মামলা
সংক্রান্ত ব্যাপারেও ডাক্তারের মেডিকেল রিপোর্ট এর সঠিক প্রয়োগ মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

৬। বিজ্ঞ আইনজীবী হিসাবে প্রত্যেকেরই উচিত একজন বিচার প্রার্থী যখন তার কাছে আসে তখন তাকে শুধু মামলা করার ব্যাপারে উৎসাহিত না করা। মামলা করলে কতুটুকুন ভাল ফলাফল হবে বা কি পরিমাণ শত্রুতা বৃদ্ধি হবে, তার মামলার আর্থিক অবস্থা কী হবে এবং পরিশেষে ফলাফল কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি সম্পর্কে বিচার প্রার্থীকে অবহিত করা এবং তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।

একজন এ্যাডভোকেট কখনই অপর পক্ষ দ্বারা যে কোন লোভের বশবর্তী হয়ে নিজ পক্ষকে ক্ষতি করে তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ করে না দেওয়া। আইনজীবীকে খেয়াল রাখতে হবে তিনি শুধু আইনজীবী নন, তিনি একজন মানুষও বটে। তাই পরকালেও তার কার্যকলাপের জন্য জবাব দিহিতা রয়েছে।

৭। বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আবেগের বশবর্তী না হয়ে, চোখ বাধা বিচারকের প্রতীক কে স্মরণ করে বিচার কাজে তার সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি, একটা সমাজ, জাতি ও দেশকে বিভ্রান্তকর পথ থেকে উদ্ধার করতে সঠিক দিশা দিয়া রাহবাহ হিসাবে কাজ করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ন্যায় বিচারের পথকে সুগম করতে পারেন।

৮। শিক্ষকগণকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষিত মা একটা শিক্ষিত জাতির জন্ম দিতে পারে। শিক্ষক তার শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে মননে, মগজে মানবিক এবং অধিকার সম্পর্কিত সচেতনতার শিক্ষা দিয়ে মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণাকে এগিয়ে দিতে পারেন।

৯। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ যার যার ধর্মের অনুসারী- দেরকে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারেন।

উল্লেখিত আলোচিত সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই এক একজন মানবাধিকার কর্মী। এ ছাড়াও আমি মনে করি নাগরিক অধিকার সহ মানবাধিকারের বিষয়ে সচেতন এবং মানবিক বোধ ও গুণাবলী সম্পন্ন প্রতিটি মানুষ- যারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট তারা সকলেই মানবাধিকার কর্মী উল্লেখিত ব্যক্তিদের করনীয় এবং ভূমিকার পাশাপাশি মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যা করণীয় তা সুপারিশ আকারে তুলে ধরছি।

১। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকারত্ব দূর করা।

২। চাকুরীজীবীদের বেতন কাঠামো যুগ উপযোগী করে তৈরি করা, যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে সৎ ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। যাতে অসৎ হওয়ার মানসিকতা না থাকে।

৩। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন শৃংখলার

উন্নতি ঘটানো।

৪। বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া এবং কার্য তদারকি

করার জন্য জুডিসিয়াল কাউন্সিল করা।

৫। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি কল্পে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৬। পৃথক তদন্ত সেল গঠন করা এবং তদন্ত কাযে উন্নত
প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৭। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব মুক্ত থেকে সৎ ও যোগ্য আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়া।

৮। মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাক্ষী প্রদানের সুযোগ করে দিয়ে বিচার কার্যে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

৯। মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সৃষ্টির পাশাপাশি অধিকতর সচেতন করে গড়ে তোলা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সততা, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করা।

১০। সংবিধানে লিপিবদ্ধ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি ও মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সম্বন্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা (সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে উল্লেখ্য)।

বিশ্বের প্রথম আইন হিসাবে পরিচিত “Twelve Table” বারো বিধি। সেখানে দেখা যাচ্ছে মানবাধিকার কর্মীদের

মানবিক বোধ ও উদ্যোগ এবং জনসাধারণের অধিকত্বর সচেতনতা, মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু-শাসন প্রতিষ্ঠায় কিভাবে ভূমিকা রাখে। এই ধারাবাহিকতায়ই দেশে দেশে নাগরিক অধিকার তথা মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সু- শাসন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় বিচারের চেষ্টা চলছে।

আমাদের প্রত্যাশা- আমাদের দেশেও মানবাধিকার কর্মী এবং সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং সরকারের শুভ ও ইতিবাচক উদ্যোগে মানবাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা জনকল্যাণে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। তাই বলতে দ্বিধা নেই যে “মানবাধিকার বাস্তবায়ন-ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :