বাংলাদেশ ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর

রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলেন ডা. শফিকুর রহমান

ইনসাফ বিশ্ব ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
  • / 371
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা পেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং ঢাকা মহানগরী আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করে ন্যায়ের পথে পরিচালিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তন করে তারা কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, যা ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বিরোধী মত দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। দুর্নীতি, লুটপাট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

প্রস্তাবিত সংস্কার

১. আইন ও বিচার বিভাগ

  • উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
  • বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূরীকরণ এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের ব্যবস্থা।
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা।
  • ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ সহ সকল কালো আইন বাতিল।

২. সংসদীয় সংস্কার

  • বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত।
  • বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন।
  • সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় প্রদান।

৩. নির্বাচন ব্যবস্থা

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (PR) চালু।
  • কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি।
  • ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল।
  • নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন।

৪. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • পুলিশ নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যূতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন।
  • পুলিশের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত।
  • র্যাবের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য সেল গঠন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ।

৫. জনপ্রশাসন

  • সরকারি চাকরিতে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ।
  • চাকরির আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা।
  • সরকারি চাকরিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা।

৬. দুর্নীতি প্রতিরোধ

  • দুর্নীতি দমন কমিশনে যোগ্য ও দক্ষ লোক নিয়োগ।
  • রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন।

৭. সংবিধান সংস্কার

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য।
  • এক ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

৮. শিক্ষা ও সংস্কৃতি

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার বর্তমান ধারা বজায় রাখা।
  • পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি।
  • সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবী করিম (সা.) এর জীবনী অন্তর্ভুক্তি।

৯. পররাষ্ট্রনীতি

  • চীন, ভারত ও বাংলাদেশের নদী পানি বণ্টন চুক্তি।
  • আসিয়ান ও SAARC-এর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি।

১০. ধর্ম মন্ত্রণালয়

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় করা।
  • হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর উদ্যোগ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া একটি সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর

রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলেন ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

আজ বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা পেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং ঢাকা মহানগরী আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করে ন্যায়ের পথে পরিচালিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তন করে তারা কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, যা ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বিরোধী মত দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। দুর্নীতি, লুটপাট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

প্রস্তাবিত সংস্কার

১. আইন ও বিচার বিভাগ

  • উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
  • বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূরীকরণ এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের ব্যবস্থা।
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা।
  • ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ সহ সকল কালো আইন বাতিল।

২. সংসদীয় সংস্কার

  • বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত।
  • বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন।
  • সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় প্রদান।

৩. নির্বাচন ব্যবস্থা

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (PR) চালু।
  • কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি।
  • ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল।
  • নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন।

৪. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • পুলিশ নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যূতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন।
  • পুলিশের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত।
  • র্যাবের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য সেল গঠন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ।

৫. জনপ্রশাসন

  • সরকারি চাকরিতে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ।
  • চাকরির আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা।
  • সরকারি চাকরিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা।

৬. দুর্নীতি প্রতিরোধ

  • দুর্নীতি দমন কমিশনে যোগ্য ও দক্ষ লোক নিয়োগ।
  • রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন।

৭. সংবিধান সংস্কার

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য।
  • এক ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

৮. শিক্ষা ও সংস্কৃতি

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার বর্তমান ধারা বজায় রাখা।
  • পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি।
  • সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবী করিম (সা.) এর জীবনী অন্তর্ভুক্তি।

৯. পররাষ্ট্রনীতি

  • চীন, ভারত ও বাংলাদেশের নদী পানি বণ্টন চুক্তি।
  • আসিয়ান ও SAARC-এর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি।

১০. ধর্ম মন্ত্রণালয়

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় করা।
  • হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর উদ্যোগ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া একটি সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।


আরো পড়ুন


 

সংবাদটি শেয়ার করুন :