বাংলাদেশ ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

গভীর নিম্নচাপটি রূপ নিল ঘূর্ণিঝড়ে, সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪
  • / 220
Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এটি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘ডানা,’ যা কাতারের প্রস্তাবিত একটি নাম এবং এর অর্থ হচ্ছে বড় মুক্তা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৬২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকা উত্তাল রয়েছে, যার ফলে সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য ডান দিকে বাঁক নিয়েছে। পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে এটি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অতিক্রম করবে, তবে এখন তা পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরাসরি আঘাত করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সাদেকুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল বা রাতের মধ্যে এটি উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের উপরিভাগের বাতাসের গতিবেগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ উপকূলে আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও ঝড়টি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়টির ব্যাস প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের পূর্বাভাস

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সকালে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ তখন ৮৮ থেকে ১১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অতীতের পরিসংখ্যান

বঙ্গোপসাগরে সাধারণত এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। ১৮৯১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে মোট ৯৪টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে। বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রম করেছে। গত বছরের একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে তিনটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ‘হামুন,’ ‘মিধিলি,’ এবং ‘মিগজাউম।’ এ বছর আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এক থেকে তিনটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1

গভীর নিম্নচাপটি রূপ নিল ঘূর্ণিঝড়ে, সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এটি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘ডানা,’ যা কাতারের প্রস্তাবিত একটি নাম এবং এর অর্থ হচ্ছে বড় মুক্তা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৬২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকা উত্তাল রয়েছে, যার ফলে সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য ডান দিকে বাঁক নিয়েছে। পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে এটি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অতিক্রম করবে, তবে এখন তা পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরাসরি আঘাত করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সাদেকুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল বা রাতের মধ্যে এটি উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের উপরিভাগের বাতাসের গতিবেগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ উপকূলে আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও ঝড়টি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়টির ব্যাস প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের পূর্বাভাস

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সকালে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ তখন ৮৮ থেকে ১১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অতীতের পরিসংখ্যান

বঙ্গোপসাগরে সাধারণত এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। ১৮৯১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে মোট ৯৪টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে। বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রম করেছে। গত বছরের একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে তিনটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ‘হামুন,’ ‘মিধিলি,’ এবং ‘মিগজাউম।’ এ বছর আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এক থেকে তিনটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :