টিআই তুহিন ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ: ৭ কোটি টাকার জব্দ
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪
- / 247
ফরিদপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) তুহিন লস্কর এবং তার স্ত্রী জামিলা পারভীন কুমকুমের নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি ৭ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ৯০১ টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। এর আগে জব্দ হওয়া প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের সঙ্গে এই নতুন সম্পদ যোগ করে মোট ১১ কোটি টাকার সম্পদ তত্ত্বাবধানের জন্য আদালত তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করেছে। ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের দুদকের দুই উপ-পরিচালককে এই দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন রবিবার (২০ অক্টোবর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১৬ অক্টোবর ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জিয়া হায়দার এ আদেশ দেন।
সম্পদের তদন্ত ও জব্দ
তুহিন লস্কর ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু হয় যখন অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর ফরিদপুর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন অনুসন্ধান চালিয়ে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ঢাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পান। ৮ সেপ্টেম্বর এই সম্পত্তিগুলো জব্দ করা হয় এবং তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায়, পুলিশ কর্মকর্তা তুহিন লস্করের নামে ঢাকা শহরের মিরপুরে ১২৫ বর্গফুট কার পার্কিংয়ের জায়গা ও ১,৮৭২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। জামিলা পারভীন কুমকুমের নামে গোপালগঞ্জের সবুজবাগ মহল্লায় ৬ কোটি টাকার একটি ছয় তলা ভবন রয়েছে।
আদালতের আদেশ
গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুদক আদালতে আবেদন করে তুহিন ও জামিলার নামে আরও সম্পদ জব্দের জন্য। আদালত সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের সব সম্পত্তি জব্দ করে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে খুলনার হাইজিং এস্টেট এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ি, ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট এবং জমি।
জামিলার অবৈধ উপার্জন
দুদক জানায়, জামিলা পারভীনের কোন প্রকৃত আয়ের উৎস নেই, তবুও তিনি ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। টিআই তুহিন লস্কর দাবি করেছেন, ঢাকায় তার নামে কোনো ফ্ল্যাট নেই এবং দুদক তাকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন।
দুদকের ফরিদপুরের উপপরিচালক রতন কুমার জানান, আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তুহিন দম্পতির সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে এই অভিযোগ সত্য নয় এবং রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

























