ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেমি ওপরে, জারি রেড অ্যালার্ট
ফুঁসছে তিস্তা: গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে লাখো মানুষের পানিবন্দি আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 203
🔴 তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদী ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লালমনিরহাট জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় এখন পানি বাড়ছে দ্রুত। রোববার সন্ধ্যার পর পানি বাড়তে শুরু করে এবং রাত ৯টার দিকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়।
⚠️ বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি
ভারত থেকে প্রবল স্রোতে পানি নেমে আসায় তিস্তা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ভেলা তৈরি করে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
🚧 ব্যারেজে সব গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তীব্র স্রোত সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, “উজান থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসছে। আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে তীরবর্তী মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলছি।”
🏞️ নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ
পানি ইতোমধ্যে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকায় ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, “আমরা নদীর পাড়ে বাস করি। এখন প্রচণ্ড ভয় লাগছে। পানি যদি আরও বাড়ে, সব ডুবে যাবে।”
🧭 সতর্কবার্তা ও প্রশাসনের উদ্যোগ
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “তিস্তার পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। আমরা সবাইকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলছি।” স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।
🌧️ প্রতিবছরের পুনরাবৃত্তি
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় এমন দুর্ভোগ হয়। তাদের মতে, “বৃষ্টিতে নয়, ভারতের উজান থেকে ছাড়া পানিই তিস্তা তীরের বন্যার কারণ।”
🔺 রেড অ্যালার্ট জারি
বর্তমানে লালমনিরহাটে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হবে।



























