রাজনীতিতে যোগ বা দল গঠনের ইচ্ছা নেই: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
- / 285
রাজনীতিতে যোগদান বা রাজনৈতিক দল গঠন করার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও জানান, তার সরকার এখনো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করেনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো সবকিছু স্বাভাবিক করা এবং সংস্কার সম্পন্ন করা। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হলে তখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।” তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের স্থান নেই বলে মনে করেন তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়
নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ও তার সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর সাবেক নেতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। ড. ইউনূস আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার এখনই শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাইবে না, কারণ এতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে তার ও আওয়ামী লীগের জন্য কোনো স্থান থাকবে না।”
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, শেখ হাসিনা তার প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা, সংস্কার করা, অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিতর্ক চলছে।
ড. ইউনূস বলেন, “আমার অনুমান অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ভেঙে যেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক সরকার নয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যতে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, তা রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে।”
ড. ইউনূস জানান শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি আরও বলেন, “আদালতের রায় ঘোষণার পর আমরা ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। তবে রায় হওয়ার আগে এই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।”


























