বাংলাদেশ ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

স্কুল শিক্ষক থেকে হিজবুল্লাহর প্রধান: কে এই নাইম কাসেম?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
  • / 175

ছবি: নাইম কাসেম

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ লেবাননের উপ-মহাসচিব নাইম কাসেমকে সংগঠনের নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সদস্য নিহত হন। এই হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কাসেম, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুর পর হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নাইম কাসেমের প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

নাইম কাসেমের জন্ম ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বৈরুতের বাস্তা আল-তাহতা এলাকায়। চার ছেলে ও দুই মেয়ের পিতা কাসেম, দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের কাফার ফিলা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শিয়া উলামা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা এবং লেবাননের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাগত কার্যক্রমের পাশাপাশি কাসেম শিশুদের মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে শুরু করেন এবং শৈশব থেকেই ধর্মীয় চিন্তাধারা প্রসারে ভূমিকা রাখেন।

আমাল সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা

১৯৭৪ সালে ইমাম মুসা আল-সদর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আমাল সংগঠনে নাইম কাসেম যুক্ত হন। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনটির সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ধারণা প্রচার ও প্রসারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর তিনি আমাল থেকে সরে দাঁড়ান এবং বৈরুতের মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষাদান অব্যাহত রাখেন।

হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের সূচনা

১৯৮২ সালে ইরান-সমর্থিত ইসলামী কমিটি ও অন্যান্য শাখার সদস্যদের আলোচনার পর হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। নাইম কাসেম হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি শুরা কাউন্সিলের সদস্য এবং বৈরুতে সংগঠনের শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব পদে নিযুক্ত হন এবং এই পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা

হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক শাখা ও পার্লামেন্টারি অ্যাকশন কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে কাসেম দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর অঙ্গীকার নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য ও বক্তব্য দেন কাসেম। তিনি গণমাধ্যমে হিজবুল্লাহর অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবিচল ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘হিজবুল্লাহ’ নামে একটি বইও রচনা করেন, যা সংগঠনের উদ্দেশ্য, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

উপসংহার

নাইম কাসেমের নেতৃত্বে হিজবুল্লাহ সংগঠনটি পুনরায় সংঘটিত হচ্ছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘকাল ধরে হাসান নাসরাল্লাহর সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসা কাসেম সংগঠনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

স্কুল শিক্ষক থেকে হিজবুল্লাহর প্রধান: কে এই নাইম কাসেম?

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ লেবাননের উপ-মহাসচিব নাইম কাসেমকে সংগঠনের নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সদস্য নিহত হন। এই হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কাসেম, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুর পর হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নাইম কাসেমের প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

নাইম কাসেমের জন্ম ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বৈরুতের বাস্তা আল-তাহতা এলাকায়। চার ছেলে ও দুই মেয়ের পিতা কাসেম, দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের কাফার ফিলা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শিয়া উলামা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা এবং লেবাননের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাগত কার্যক্রমের পাশাপাশি কাসেম শিশুদের মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে শুরু করেন এবং শৈশব থেকেই ধর্মীয় চিন্তাধারা প্রসারে ভূমিকা রাখেন।

আমাল সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা

১৯৭৪ সালে ইমাম মুসা আল-সদর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আমাল সংগঠনে নাইম কাসেম যুক্ত হন। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনটির সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ধারণা প্রচার ও প্রসারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর তিনি আমাল থেকে সরে দাঁড়ান এবং বৈরুতের মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষাদান অব্যাহত রাখেন।

হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের সূচনা

১৯৮২ সালে ইরান-সমর্থিত ইসলামী কমিটি ও অন্যান্য শাখার সদস্যদের আলোচনার পর হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। নাইম কাসেম হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি শুরা কাউন্সিলের সদস্য এবং বৈরুতে সংগঠনের শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব পদে নিযুক্ত হন এবং এই পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা

হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক শাখা ও পার্লামেন্টারি অ্যাকশন কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে কাসেম দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর অঙ্গীকার নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য ও বক্তব্য দেন কাসেম। তিনি গণমাধ্যমে হিজবুল্লাহর অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবিচল ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘হিজবুল্লাহ’ নামে একটি বইও রচনা করেন, যা সংগঠনের উদ্দেশ্য, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

উপসংহার

নাইম কাসেমের নেতৃত্বে হিজবুল্লাহ সংগঠনটি পুনরায় সংঘটিত হচ্ছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘকাল ধরে হাসান নাসরাল্লাহর সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসা কাসেম সংগঠনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :