আইনের নতুন সংশোধনীতে পরিবর্তন
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান
- আপডেট সময় : ১০:২০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
- / 198
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এই প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক এবং নতুন সিদ্ধান্ত
গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে অফিস করেন এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টারা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ড. আসিফ নজরুল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধনী অধ্যাদেশের খসড়ায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, দেশি-বিদেশি আইনজীবী এবং জাতিসংঘের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে একটি খসড়া তৈরি করে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং তা অনুমোদন লাভ করে।
তিনি আরও জানান, আইনের সংশোধনীতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান ছিল, তবে এই প্রভিশন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে, তবে আমাদের অন্যান্য আইন রয়েছে।”
ত্রুটি সংশোধন এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া
আইন উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা রোম স্ট্যাটিউট অনুসারে পরিবর্তন করা হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে তিন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিচারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদ বিচারকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংশোধনীতে অভিযুক্ত পক্ষকে সমান সুযোগ দেওয়া এবং সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রমাণের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং করার সুযোগও থাকবে, যা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের বিচার করতে প্রণীত হয়েছিল। সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, ভিকটিমের সুরক্ষা, এবং সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচারও করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া রেকর্ড রাখার জন্য অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ঐতিহাসিক সংরক্ষণে সাহায্য করবে।
বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে এবং কোনো পক্ষপাতের অভিযোগ এড়াতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করেছি। এর ফলে বিচারকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ থাকবে না।”
বাংলাদেশিদের ফেরত আনার উদ্যোগ
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা জানান, আরব আমিরাতে আটক থাকা কিছু বাংলাদেশিকে ফেরত আনার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া জেনেভায় একটি ঘটনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে সচেষ্ট এক বিচার প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়ার মাধ্যমে আইনকে আরও গ্রহণযোগ্য এবং মানবাধিকারবান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে।

























