২০ বছর পর ক্ষমতায় বিএনপি, বিরোধী দলে জামায়াত
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 65
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৯টি আসনের মধ্যে দলটি ২১৩টিতে জয় পেয়েছে, যা এককভাবেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি।
সংসদে সরকার গঠনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসনে জয় প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে বিএনপি স্বতন্ত্রভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনের এ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ৭১টি আসনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অতীতে দলটি বিভিন্ন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী—উভয় ভূমিকায় থাকলেও এবার স্বতন্ত্রভাবে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১১টি আসনে।
নির্বাচনে আলোচিত দুই আসন ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি তাঁর প্রথম সরাসরি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবং উভয় আসনেই জয় তাঁকে দলের নেতৃত্বে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
বিএনপির ঘোষণামতে, সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি এবং পরবর্তীতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
দলের ইতিহাসে ফিরে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০০১ সালে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দলটিকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ১৯৯১ সালে দলটি সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।
গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেয়।
এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। একদিকে দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে জামায়াতের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভাব—দুই ঘটনাই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।



















