বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দিনব্যাপী রোডশো, সেমিনার ও স্টল প্রদর্শনীতে সর্বস্তরের নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
ফরিদপুরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ সম্প্রসারণে সেমিনার: ডিজিটাল লেনদেনে ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের আশা
- আপডেট সময় : ১০:১৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
- / 123
দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত “ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ কার্যক্রম সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন” উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর (রোববার) ফরিদপুর জেলায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য রোডশো, সেমিনার এবং স্টল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
সকাল ১০:৩০টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মূল ফটক থেকে শুরু হয়ে শিশু একাডেমিতে শেষ হয় বর্ণাঢ্য র্যালী। এরপর সকাল ১১টায় শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ডিভিশনের প্রধান রাফিজা আক্তার কান্তা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ
ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ দিলরুবা জেবা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তন্ময় ইসলাম।
সেমিনারের শুরুতে গভর্নর মহোদয়ের ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়। তিনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উল্লেখ করেন, টাকা ছাপানো ও পরিবহনে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ বাঁচানো সম্ভব। তিনি রাহাজানি, ছিনতাই ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন অর্থনীতি প্রবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মো: পারওয়েজ আনজাম মুনির “ক্যাশলেস বাংলাদেশ” উদ্যোগ সম্পর্কিত একটি উপস্থাপনা পরিচালনা করেন। নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান “বাংলা কিউআর” এর কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসারে এর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার এবং ডাঃ দিলরুবা জেবাও তাঁদের বক্তব্যে সকলকে “বাংলা কিউআর” লেনদেনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তন্ময় ইসলাম দ্রুত, নিরাপদ লেনদেন এবং নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তির জন্য এই ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়তে এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম নিয়মিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রাফিজা আক্তার কান্তা আশা প্রকাশ করেন যে, “বাংলা কিউআর” এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।
সেমিনার শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মার্চেন্ট ও অন্যান্য অতিথিগণ ফরিদপুর জেলার লিড ব্যাংক সহ বাংলা কিউআর অধিভুক্ত ১৭টি ব্যাংকের ২০টি জাকজমকপূর্ণ স্টল পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে বাংলা কিউআর পেমেন্টের সুবিধা ও প্রক্রিয়া প্রদর্শিত হয়। দর্শনার্থীরা সেলফিন, নগদ, বিকাশ সহ বাংলা কিউআর সাপোর্টেড অ্যাপের মাধ্যমে আগ্রহের সঙ্গে পেমেন্ট সম্পন্ন করেন। ভ্রাম্যমাণ কফি, চা, ফুসকা ও মুড়ি বিক্রেতাদের বাংলা কিউআর অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।



















