বিনানুমতিতে ভিডিও ধারণ করলেই জেল: কড়া হচ্ছে সাইবার আইন
- আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 0
এখন থেকে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে রাস্তাঘাটে বা যেকোনো স্থানে অনুমতি ছাড়া কারো ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৬ সালের নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে এই ধরনের অপরাধের বিচার মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান। তিনি জানান, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিং বা হয়রানি করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অপরাধ ও শাস্তির বিধান
নতুন আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃত করা বা নেতিবাচক শিরোনামে প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
- সাধারণ ক্ষেত্রে শাস্তি: এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
- নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে: ভুক্তভোগী যদি নারী বা শিশু (১৮ বছরের কম) হয়, তবে শাস্তির মেয়াদ বেড়ে ৫ বছর এবং জরিমানা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
- চাঁদাবাজির দণ্ড: ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে সাইবার প্রতারণা ধারায় ৫ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
দ্রুত বিচার ও প্রযুক্তিগত কঠোরতা
মন্ত্রী জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট নজরে এলে বিটিআরসি তা তাৎক্ষণিক ব্লক করে দেবে। তদন্তের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ব্যবহার করা হবে, যা ভিডিওর উৎস ও অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া, ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পাবেন।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
বাংলাদেশের বাইরে থেকেও যদি কেউ দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে অপপ্রচার চালায়, তবে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন-২০১২’ এর মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সাহায্যে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সাইবার অপরাধও এখন শনাক্ত করা সম্ভব।




























