একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০৪:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 83
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রচারিত ভাষণে তিনি জানান, নতুন সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট এবং উচ্চকক্ষ গঠিত হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে।
এর আগে বৃহস্পতিবারই বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তবে ছাত্র ও জনতার পক্ষ থেকে আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—“ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না।” তবুও আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া এখন আইনত কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন নির্ধারণ করেছি।” এরপর তিনি গণভোটের প্রশ্নটি জাতির সামনে তুলে ধরেন। প্রশ্নটি হবে:
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”
এই প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত থাকবে চারটি মূল বিষয়—
১️ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান: জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
২️ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন: ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ থাকবে; সংবিধান সংশোধনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আবশ্যক হবে।
৩️ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার: নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা।
৪️ অন্যান্য রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন: জুলাই সনদে বর্ণিত দলীয় প্রতিশ্রুতি অনুসারে কার্যকর করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোটের দিনে নাগরিকরা এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের রায়ই হবে দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান সংস্কারের দিকনির্দেশনা।

















