১৭ নভেম্বর রায়: জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা প্রধান আসামি
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 68
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন নির্ধারণ করে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত ১২ মে জমা দেওয়ার পর ১ জুন শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
একপর্যায়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি সাক্ষ্য দেন। মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন, যাদের মধ্যে ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য, বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান এবং নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়ানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তার নির্দেশে ও সহযোগিতায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা এবং পুড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।
মোট পাঁচটি অভিযোগে হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, উসকানি, পরিকল্পনা ও হত্যার দায় আনা হয়েছে। ১৪ জুলাইয়ের বক্তব্য, ৫ আগস্টের রাজধানী হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ার ছাত্র হত্যার ঘটনাকে ভিত্তি করে এসব অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

















